সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে দ্রুত গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই দাবি উত্থাপন করেন দলটির নেতারা।
ব্রিফিংয়ে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের পূর্ণ বিচার নিশ্চিত করতে এবং স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পুনরুত্থান ঠেকাতে মো. সাহাবুদ্দিনকে আইনের আওতায় আনা জরুরি। তিনি অভিযোগ করেন, পদত্যাগ করা এই রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিবাদের সহযোগী ছিলেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে হওয়া বিভিন্ন গুম ও হত্যাকাণ্ডে পরোক্ষভাবে বৈধতা দিয়েছিলেন। এমনকি ছাত্র-জনতার ওপর চলা গণহত্যার সময়ও তিনি নীরব থেকে তৎকালীন সরকারের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন জুগিয়েছেন বলে দাবি করেন এই নেতা।
আখতার হোসেন আরও উল্লেখ করেন, অসুস্থতার অজুহাতে পদত্যাগ করলেও সাহাবুদ্দিন তার পদত্যাগপত্রে অপ্রাসঙ্গিক ঐতিহাসিক বিবরণ যুক্ত করে নিজের জন্য একটি ‘সেফ এক্সিট’ বা নিরাপদ প্রস্থানের পথ তৈরির চেষ্টা করেছেন। বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদের অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও বিএনপি তাকে অভিশংসনের উদ্যোগ না নিয়ে বরং তার অবস্থানকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখেছিল। এখন পদত্যাগের পর তার সাংবিধানিক সুরক্ষা আর নেই, তাই তাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা উচিত।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব অভিযোগ করেন, বিএনপি তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে বসিয়ে আগামী নির্বাচনে সুবিধা নিতে চায়। এ কারণেই সরকার গঠনের পাঁচ মাসের মাথায় রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ ও নেত্রী মনিরা শারমিনসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। দলটির অভিযোগ, তিনি ফ্যাসিবাদের সহযোগী ছিলেন এবং ছাত্র-জনতার ওপর চালানো গণহত্যায় নীরব সমর্থন দিয়েছিলেন।


0 Comments