ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে গ্রাহক পর্যায়ে ঘুষ বাণিজ্য, অতিরিক্ত ও ভূতুড়ে বিল আদায় এবং ঠিকাদার নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে টেন্ডারে অনিয়ম ও দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের বিষয়ে গ্রাহকরা দুর্নীতি দমন কমিশনেও অভিযোগ দাখিল করেছেন। স্থানীয় ঠিকাদারদের দাবি, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মিনি ঠিকাদার তালিকাভুক্তকরণে স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেন করা হচ্ছে। যোগ্যতাসম্পন্ন স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাদ দিয়ে জেলার বাইরের নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই সিন্ডিকেটের সাথে ডিজিএম (কারিগরি) লুৎফুল হাসান, সহকারী জেনারেল ম্যানেজার নাহিদ ইসলাম এবং সাবেক জিএম আসাদুজ্জামান খানের নাম জড়িয়েছে। জানা গেছে, গত বছর ১৭২টি আবেদন জমা পড়লেও তৎকালীন জিএম আসাদুজ্জামান খান নিয়ম বহির্ভূতভাবে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করেন। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি রংপুর জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রেজাউল করিম স্বচ্ছতা যাচাইয়ের নির্দেশ দিলেও তা অমান্য করে গোপনে তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। আরাফাত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এনামুল হক অভিযোগ করেন, নিয়ম মেনে আবেদন করলেও তাকে বাদ দিয়ে বাইরের জেলার প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি সহকারী জেনারেল ম্যানেজার নাহিদ ইসলাম তাকে রাজনৈতিক সুপারিশ আনতে বলেছেন বলেও তিনি জানান। এ বিষয়ে বর্তমান জেনারেল ম্যানেজার আশরাফুল আলম খান জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়াটি আগের এবং বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। তবে স্বচ্ছতা বা সিন্ডিকেটের বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি। এই দুর্নীতির কারণে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ ভোগান্তির শিকার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এতে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের প্রায় ২০ লক্ষ গ্রাহকের সেবা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


0 Comments