মানুষের জীবনে প্রকৃত ঐশ্বর্য বলতে সাধারণত বিপুল অর্থবিত্ত বা জমিজমা বোঝানো হলেও ইসলামের দৃষ্টিতে এর সংজ্ঞা ভিন্ন। প্রকৃত ঐশ্বর্য হলো অন্তরের সচ্ছলতা ও প্রশান্তি। নবীজি (সা.) এই সত্যটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। সহিহ বুখারির একটি হাদিসে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বৈষয়িক প্রাচুর্য প্রকৃত ঐশ্বর্য নয়, বরং মনের তৃপ্তিই হলো আসল সম্পদ। যার অন্তরে এই তৃপ্তি নেই, সে কোটি টাকার মালিক হয়েও মূলত দরিদ্র।
সাহাবি আবু জরের (রা.) সাথে নবীজির (সা.) একটি কথোপকথন থেকে এই বিষয়ের গভীরতা অনুধাবন করা যায়। নবীজি (সা.) তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, সম্পদ বেশি হওয়াটাই কি ঐশ্বর্য আর কম হওয়াটাই কি দারিদ্র্য? আবু জর (রা.) ইতিবাচক উত্তর দিলে নবীজি (সা.) তাঁকে সংশোধন করে বলেন, অন্তরের অভাবমুক্তিই প্রকৃত ঐশ্বর্য এবং মনের দারিদ্র্যই হলো আসল দারিদ্র্য। তিনি কোরাইশ বংশের একজন প্রভাবশালী ধনী ব্যক্তির তুলনায় মসজিদে নববির চবুতরায় থাকা একজন অপরিচিত দরিদ্র মানুষকে শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করেন। নবীজি (সা.) জানান, সম্পদ থাকা বা না থাকা উভয়ই আল্লাহর পরীক্ষা এবং মানুষের আসল মাপকাঠি হলো তার অন্তরের অবস্থা।
ইসলাম সম্পদ অর্জনকে কখনো নিরুৎসাহিত করেনি। সাহাবিদের মধ্যে উসমান ইবনে আফফান (রা.) বা আবদুর রহমান ইবনে আওফের (রা.) মতো অনেকেই বিপুল সম্পদের মালিক ছিলেন এবং তাঁদের দানশীলতার জন্য তাঁরা প্রশংসিতও হয়েছেন। তবে তাঁরা সম্পদের মালিক হলেও সম্পদ তাঁদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি। সুনানে তিরমিজির একটি হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, আল্লাহ যা বণ্টন করেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকলেই মানুষ সর্বাধিক ঐশ্বর্যশালী হতে পারে।
অন্তরের এই সচ্ছলতা অর্জনের উপায় হলো আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা। এর অর্থ এই নয় যে মানুষ চেষ্টা ছেড়ে দেবে, বরং চেষ্টার পর ফলাফলের জন্য অস্থির না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখাই হলো প্রকৃত সন্তুষ্টি। অন্যের সাফল্যের সাথে নিজের জীবনের তুলনা না করে এবং নিজের চেয়ে কম সম্পদশালীদের দিকে তাকিয়ে শুকরিয়া আদায় করার মাধ্যমেই এই প্রশান্তি অর্জন সম্ভব। আল্লাহ যা প্রদান করেন তাতেই প্রকৃত কল্যাণ নিহিত—এই বিশ্বাস অন্তরে লালন করলে মানুষ প্রকৃত সুখী হতে পারে।
টাকাপয়সা বা প্রতিপত্তি নয়, বরং অন্তরের সচ্ছলতাই হলো প্রকৃত ঐশ্বর্য। নবীজির অমূল্য শিক্ষার আলোকে জানুন কীভাবে নিজের জীবনে প্রকৃত প্রশান্তি ও তৃপ্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।


0 Comments