পটুয়াখালীর বাউফলে নাসির উদ্দিন মৃধা (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে দুই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ থেকে সংবাদ পেয়ে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা কলেজ এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ। ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন বাউফলের চরআলগী গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন কৃষক।
অভিযুক্ত দুই নেতা হলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য ও দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আলী আজম চৌধুরী এবং বাউফল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম বিল্লাহ। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পটুয়াখালী আদালত থেকে ফেরার পথে হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকা থেকে তাঁকে মোটরসাইকেলে তুলে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে মাসুম বিল্লাহর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে নিয়ে হাত-পা বেঁধে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে সাড়ে ছয় হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাসপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান এ এন এম জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরীর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। নাসির উদ্দিন ওই চেয়ারম্যানের একনিষ্ঠ সমর্থক হওয়ায় এই অপহরণের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরী ও মাসুম বিল্লাহ উভয়েই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, নাসির উদ্দিন একজন মাদক ব্যবসায়ী এবং অপহরণের ঘটনার সাথে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, ৯৯৯ থেকে ফোন পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে। পরে তাঁকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। যেহেতু অপহরণের মূল ঘটনাটি পটুয়াখালী সদর থানা এলাকায় ঘটেছে, তাই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পটুয়াখালীর বাউফলে দুই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এক যুবককে অপহরণ ও হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।


0 Comments