সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ইজারার নামে অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিবাদে শত শত কয়লা ও চুনাপাথর বোঝাই নৌযান ধর্মঘট পালন করছে। পাটলাই ও যাদুকাটা নদীর বিভিন্ন ঘাটে এই টোল আদায়কে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও মালিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পাটলাই নদীর বিআইডব্লিউটিএ (কামালপুর), উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা খাস কালেকশন (কুটগাড়ি) ও আর কাটি ঘাট এবং যাদুকাটা নদীর ঘাগড়া, ফাজিলপুর ও বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে নিয়মবহির্ভূতভাবে টাকা নেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, যেসব স্থানে মালামাল ওঠানামা করা হয় না, সেখানেও ঘাটের নামে টাকা আদায় করা হচ্ছে। ইজারার সঠিক পরিমাণ এবং কারা এই প্রক্রিয়ায় জড়িত, তা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বচ্ছতা নেই বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতির কারণে শত শত নৌশ্রমিক বর্তমানে কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন, যার ফলে ব্যবসায়ীরাও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারাও এই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।
অতিরিক্ত টোল আদায়, শ্রমিক নির্যাতন ও জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের প্রতিবাদে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে যাদুকাটা নদী নৌকা মালিক সমিতি এবং স্টোন ক্রাসার মালিক সমিতি। এই বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ-এর ইজারাদার নাসির মিয়া জানান, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি টনে ৭০ টাকা করে টোল নেওয়া হচ্ছে এবং তারা অতিরিক্ত কোনো অর্থ নিচ্ছেন না।
বিআইডব্লিউটিএ সিলেট আঞ্চলিক দপ্তরের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলাম জানান, গত ১ জুলাই থেকে সারা দেশে টোলের হার প্রতি টনে ৭০ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান মানিক জানিয়েছেন, অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিবাদে শত শত নৌযান ধর্মঘট পালন করছে। শ্রমিক ও মালিকদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে দ্রুত সমাধানের দাবি জানানো হয়েছে।


0 Comments