আধুনিক বিশ্বের ব্যস্ত শহরগুলোতে ট্রাফিক সিগন্যাল ছাড়া যান চলাচল কল্পনা করা কঠিন হলেও হিমালয়ের দেশ ভুটান এক্ষেত্রে এক অনন্য ব্যতিক্রম। দেশটির রাজধানী থিম্পুতে কোনো স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল নেই। পরিবর্তে প্রশিক্ষিত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের হাতের সংকেতেই অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলাচল করে হাজার হাজার যানবাহন।
থিম্পুর প্রধান মোড়গুলোতে ঐতিহ্যবাহী কাঠের নকশা করা ছোট ছাউনির নিচে দাঁড়িয়ে সাদা দস্তানা পরে দায়িত্ব পালন করেন পুলিশ সদস্যরা। তাদের হাতের বিশেষ ভঙ্গিমা দেখেই চালকরা গাড়ি থামান বা সামনে এগিয়ে যান। মজার বিষয় হলো, ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে থিম্পুতে একবার পরীক্ষামূলকভাবে ট্রাফিক সিগন্যাল বসানো হয়েছিল। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা যান্ত্রিক সিগন্যালের চেয়ে মানুষের সরাসরি নির্দেশনাকে বেশি কার্যকর ও মানবিক মনে করায় পরবর্তীতে তা সরিয়ে নেওয়া হয়।
ভুটানের এই সুশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থার পেছনে রয়েছে নাগরিকদের আইন মানার প্রবণতা এবং ‘গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস’ বা জাতীয় সুখের দর্শন। প্রায় ৮ লাখ জনসংখ্যার এই দেশে অপ্রয়োজনে হর্ন বাজানো নিরুৎসাহিত করা হয় এবং পথচারীদের দেওয়া হয় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পর্যটকদের কাছেও থিম্পুর এই ব্যতিক্রমী ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। যদিও নগরায়ণ ও যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে, তবে ভুটান সরকার এখনও এই মানবিক ও ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিকেই বেশি কার্যকর মনে করছে।
আধুনিক বিশ্বের ব্যস্ততায় ট্রাফিক সিগন্যাল ছাড়া চলাচলের কথা ভাবা না গেলেও ভুটানের রাজধানী থিম্পু এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। পুলিশের হাতের ইশারায় সেখানে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলে সব যানবাহন।


0 Comments