খোরশেদুল আলম, পেকুয়া: কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর (টিসিবি) পণ্য বিতরণে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার অনুমোদিত দুই টিসিবি ডিলারের কেউ পেকুয়ার স্থায়ী বাসিন্দা নন। একজন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার এবং অন্যজন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাসিন্দা।
অভিযোগ রয়েছে, একজন দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অনুপস্থিত থাকলেও তার নামে বরাদ্দ হচ্ছে। অন্যজন কাগজে-কলমে দোকান ও গুদামের ঠিকানা দেখালেও বাস্তবে স্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্র ছাড়াই বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে পণ্য বিতরণ করছেন। এতে উপজেলার ৬ হাজার ৬৫৫টি ফ্যামিলি কার্ডধারী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জেবি ট্রেডিং ও ইসলাম ট্রেডিংয়ের কাগজপত্রে দোকান ও গুদামের ঠিকানা থাকলেও সরেজমিনে সেখানে স্থায়ী দোকান বা গুদামের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। নির্দিষ্ট বিক্রয়কেন্দ্র না থাকায় কার্ডধারীদের এক স্থান থেকে আরেক স্থানে ঘুরতে হচ্ছে। নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন।
পেকুয়া সদর ইউনিয়নের টিসিবি কার্ডধারী নাসির উদ্দিন বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। পরে বলা হলো আমার কার্ড অন্য ডিলারের কাছে। সেখানে গিয়ে কাউকে পাইনি। সারাদিন অপেক্ষা করেও পণ্য না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) অনুযায়ী, পেকুয়া সদর ইউনিয়নে জেবি ট্রেডিংয়ের নামে ১ হাজার ১৬টি এবং ইসলাম ট্রেডিংয়ের নামে ২৯৭টি ফ্যামিলি কার্ডের বিপরীতে পণ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ইসলাম ট্রেডিংয়ের মালিক মনিরুল ইসলাম বলেন, আমি ডিলারশিপ নিলেও কখনো নিজে টিসিবির পণ্য বিতরণ করিনি। আমার কোনো দোকান বা গুদামও নেই। স্থানীয় কয়েকজন আমার নামে পণ্য বিতরণ করতেন। গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে এ বিষয়ে কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগও করেনি। আমার নামে এখনও বরাদ্দ হচ্ছে এ বিষয়েও আমি জানি না।
অন্যদিকে জেবি ট্রেডিংয়ের মালিক প্রিয়তোষ নাথ বলেন, আমি শুধু আমার প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ হওয়া টিসিবির পণ্য বিতরণ করি। ইসলাম ট্রেডিংয়ের কার্যক্রমের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
টিসিবির নীতিমালায় অনুমোদিত স্থানে স্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্র থেকে পণ্য বিতরণ এবং নিজস্ব বা অনুমোদিত গুদামে পণ্য সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে পেকুয়ায় এসব শর্ত মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
পেকুয়ায় টিসিবি পণ্য বিতরণে স্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্র না থাকা ও ডিলার অনুপস্থিতির অভিযোগ উঠেছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন ৬ হাজার ৬৫৫ কার্ডধারী। তদন্ত দাবি স্থানীয়দের।


0 Comments