বর্তমান সময়ে ঘূর্ণিঝড়, শিলাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি ও বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। পবিত্র কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, এসব বিপর্যয় কখনো মানুষের কৃতকর্মের ফল আবার কখনো মুমিনদের জন্য পরীক্ষা হিসেবে আবির্ভূত হয়। প্রাকৃতিক এসব দুর্যোগের সময় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর শেখানো বিশেষ কিছু দোয়া ও আমল রয়েছে যা মুমিনদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজমের সহকারী অধ্যাপক অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী এ প্রসঙ্গে জানান, বজ্রপাতের সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি বিশেষ দোয়া পড়তেন। দোয়াটি হলো— ‘আল্লাহুম্মা লা তাক্তুলনা বিআজাবিকা ওয়া লা তুহলিকনা বিগদাবিকা ওয়া আফিনা কাবলা জালিকা।’ যার অর্থ হলো, হে আল্লাহ! আপনার আজাব ও গজব দিয়ে আমাদের ধ্বংস করবেন না, বরং তার আগেই আমাদের ক্ষমা করে দিন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়া বইলে রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করতেন এবং মসজিদে গিয়ে নামাজে মশগুল হতেন। বৃষ্টির সময় তিনি উপকারী বৃষ্টির জন্য দোয়া করতেন। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ভয়, ক্ষুধা ও জানমালের ক্ষতির মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করেন এবং ধৈর্যশীলদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ। তাই যেকোনো বিপদে আতঙ্কিত না হয়ে বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করার পরামর্শ দিয়েছেন এই ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বজ্রপাতের সময় মহানবী (সা.) এর শেখানো দোয়া ও আমল সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন। বিপদে আল্লাহর রহমত কামনায় তওবা ও ইস্তিগফারের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা।


0 Comments