পেশাগত জীবনের ব্যস্ততা কিংবা সহকর্মীদের আড্ডায় সবসময় প্রাণবন্ত থাকা সেই পরিচিত মুখটি আর নেই। বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) কার্যনির্বাহী সদস্য ও দৈনিক ‘খবর সংযোগ’-এর বিশেষ প্রতিনিধি আবু হেনা রাসেলের অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সাংবাদিক মহলে। সহকর্মীকে হারানোর বেদনায় শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংগঠনটির মিলনায়তনে এক শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহর সঞ্চালনায় এই শোকসভা অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়। স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে সহকর্মীরা রাসেলের পেশাগত সততা, নিষ্ঠা ও সাহসিকতার কথা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকতায় তিনি যেমন সাহসী ছিলেন, তেমনি অনুজদের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক। তিনি কেবল একজন দক্ষ সাংবাদিকই ছিলেন না, বরং একজন অত্যন্ত মানবিক ও অমায়িক ব্যক্তিত্বের মানুষ ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মরহুমের সাংবাদিকতা জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য রাখেন ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি খায়রুজ্জামান কামাল, ফকরুল আলম কাঞ্চন, কামরুজ্জামান খান এবং উপদেষ্টা মর্তুজা লিটন হায়দার। এছাড়া সাবেক সহসভাপতি মাসুম মিজান, শাহীন আব্দুল বারী ও উমর ফারুক আলহাদী তাদের স্মৃতিচারণা পেশ করেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ খানও রাসেলের পেশাগত অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
বক্তারা মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং যেকোনো প্রয়োজনে তাদের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি ইসারফ হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সাবেক উপদেষ্টা ইকরামুল কবীরসহ সংগঠনের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে আবু হেনা রাসেলের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সেগুনবাগিচা জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. আবুল হাসানাত।
সাংবাদিক আবু হেনা রাসেলের অকাল প্রয়াণে ক্র্যাব মিলনায়তনে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সহকর্মীরা তার পেশাগত সততা ও মানবিক গুণাবলির স্মৃতিচারণা করেন এবং পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।


0 Comments