ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

বুরকিনা ফাসোয় ধর্মীয় উগ্রবাদ দমনে কঠোর ক্যাপ্টেন ত্রাওরে, মুসলিম নেতাদের সঙ্গে বাড়ছে দূরত্ব

বুরকিনা ফাসোয় ধর্মীয় উগ্রবাদ দমনে কঠোর ক্যাপ্টেন ত্রাওরে, মুসলিম নেতাদের সঙ্গে বাড়ছে দূরত্ব

আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর অন্তর্বর্তীকালীন নেতা ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে ধর্মীয় উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। একসময় প্রভাবশালী মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের সমর্থন পেলেও বর্তমানে তাদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের দ্রুত অবনতি ঘটছে। ত্রাওরে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বুরকিনা ফাসোয় মৌলবাদী ইসলামের কোনো জায়গা নেই এবং যারা উগ্রবাদ উসকে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি পাস হওয়া নতুন ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন এবং কয়েকজন প্রভাবশালী ইমামকে আটক করাকে কেন্দ্র করে মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অংশের সঙ্গে সরকারের বিরোধ তীব্রতর হয়েছে।

গত মে মাসের শেষ দিকে প্রভাবশালী সুন্নি আলেম ইমাম মোহাম্মদ ইসহাক কিন্দো নতুন আইনের সমালোচনা করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে বোবো-দিউলাসো শহর থেকে আরেক প্রভাবশালী আলেম মাহমুদ বারোকেও আটক করা হয়েছিল। কিন্দোর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হলে রাজধানী উয়াগাদুগুর প্রধান সুন্নি মসজিদটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। এছাড়া প্রায় ১০০ সমর্থককে একটি সামরিক শিবিরে নিয়ে নাগরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ক্যাপ্টেন ত্রাওরে সতর্ক করে বলেছেন, যেসব ইমাম খুতবায় উগ্রবাদী চিন্তাধারা প্রচার করবেন তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে তিনি শান্তিপূর্ণ ইসলামের ব্যাখ্যা প্রদানকারী আলেমদের রাষ্ট্রীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া আরব দেশগুলোতে ইসলামি আইন নিয়ে পড়াশোনা করা প্রায় আট লাখ শিক্ষার্থীকে দেশে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। যারা দেশে ফিরতে অস্বীকার করবেন, তাদের নাগরিকত্ব বাতিলের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই বিদেশে শিক্ষার ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আগাম অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

গত ২০ জুন অন্তর্বর্তী পার্লামেন্টে পাস হওয়া নতুন আইনে ধর্মের নামে শিশুদের দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করানো বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অস্বচ্ছতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এদিকে অভ্যন্তরীণ এই উত্তেজনার মধ্যেই বুরকিনা ফাসোয় নিযুক্ত নতুন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত সিমন সেরুসি তার পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের সঙ্গে এই সম্পর্ক উন্নয়ন এবং ধর্মীয় নেতাদের ওপর কড়াকড়ি ত্রাওরে সরকারের নতুন রাজনৈতিক অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই কঠোর অবস্থান রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করবে নাকি সামাজিক সংঘাত বাড়াবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সংক্ষেপে:
বুরকিনা ফাসোর অন্তর্বর্তী নেতা ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে ধর্মীয় উগ্রবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। প্রভাবশালী মুসলিম নেতাদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ও নতুন আইন নিয়ে দেশটিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বুরকিনা ফাসোয় ধর্মীয় উগ্রবাদ দমনে কঠোর ক্যাপ্টেন ত্রাওরে, মুসলিম নেতাদের সঙ্গে বাড়ছে দূরত্ব

0 Comments