পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসে শুরু হওয়া অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ভাঙনের মুখেও নিজের অনমনীয় অবস্থান বজায় রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের একটি বড় অংশ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আলাদা জোট গঠন করে ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করলেও মমতা তাদের কড়া চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, তাকে রাজনীতি থেকে সরাতে হলে বিরোধীদের তাকে হত্যা করতে হবে।
শনিবার তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পদত্যাগ দলটির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। চন্দ্রিমা পরবর্তীতে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেন। এ প্রসঙ্গে মমতা জানান, চন্দ্রিমার পদত্যাগের বিষয়টি তিনি আগেই জানতেন। তবে বিদ্রোহীদের দেওয়া কোনো প্রস্তাব গ্রহণ না করার বিষয়ে তিনি অনড়। মমতা অভিযোগ করেন, মূলত চাপের মুখে পড়ে কিছু নেতা দল ত্যাগ করেছেন, কিন্তু তিনি বা তার দল বিজেপির কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না।
দলের প্রধান কার্যালয় দখল ও তালা দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মমতা বলেন, ২০২৭ সাল পর্যন্ত ওই অফিসের লিজ তাদের নামে রয়েছে। কোনো ব্যক্তি দল ছাড়লে প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত হয় না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যাদের তিনি নিজে মনোনয়ন দিয়েছিলেন, তারা নির্বাচনের মাত্র দুই মাস পরেই কীভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন।
বর্তমানে দলের জাতীয় ও রাজ্য স্তরের সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন থেকে তার কালীঘাটের বাসভবনই দলের মূল কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হবে। উল্লেখ্য, নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই দলে ভাঙন শুরু হয় এবং এখন পর্যন্ত ৬০ জনের বেশি বিধায়ক ও ২০ জনের বেশি লোকসভা সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। পদত্যাগী নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, পারস্পরিক আস্থার অভাবের কারণেই তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ভাঙনের মুখেও অনড় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহীদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, তাকে থামাতে হলে হত্যা করতে হবে। দলের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।


0 Comments