চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার খিতাপচর গ্রামের কৃষক মিনারুল হক বিদেশি জাতের আম চাষ করে কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছেন। একসময় অনাবাদি ও লোনা পানিতে নিমজ্জিত থাকা জমিতে এখন শোভা পাচ্ছে থাইল্যান্ড, ব্রুনেই, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি বিরল জাতের আম। মিনারুল হকের এই অভাবনীয় সাফল্যে সহযোগী হিসেবে রয়েছেন তার দুই ছেলে তানভীরুল হক ও সাইদুল হক।
এবারের মৌসুমে তাদের ১০ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত 'মেসার্স হক অ্যাগ্রো ফার্ম' থেকে প্রায় ১০ হাজার কেজি আম বিক্রি হয়েছে, যার বাজারমূল্য ৮ লাখ টাকার বেশি। বাগানে আম্রপালি ও বারি-৪ এর পাশাপাশি থাই চিয়াংমাই, ব্রুনেই কিং, রেড পালমার, হানিডিউ, বারোমাসি কাটিমন, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, কিউজাই, কিং অব চাকাপাত, ব্ল্যাক স্টোন এবং রেড আইভরির মতো দামি ও বিরল জাতের আম রয়েছে। ক্রেতারা সরাসরি বাগান থেকে এসব আম সংগ্রহ করছেন।
ছয় বছর আগে মাত্র ৩৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ৭০টি বরইগাছ দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন ৬০ বছর বয়সী মিনারুল হক। বর্তমানে তার খামারে সাড়ে চার হাজার ফল গাছ রয়েছে। আম ছাড়াও গত এক বছরে পেয়ারা, বরই, সুপারি, ডাব ও কলা বিক্রি করে তাদের মোট আয় হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকা। খামারে মাছের ঘেরের পাশাপাশি গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগিও পালন করা হচ্ছে, যা একটি সমন্বিত কৃষিব্যবস্থার উদাহরণ।
বোয়ালখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহানুর ইসলাম জানান, মিনারুল হকের পরিবার এখন মাসে এক লাখ টাকার বেশি আয় করছে। তাদের এই সাফল্য দেখে এলাকার অনেক কৃষক এখন ফলের বাগান ও সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তুলতে আগ্রহী হচ্ছেন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) ফল বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মসিউর রহমান বলেন, ব্যানানা ম্যাঙ্গো ও কাটিমনসহ কিছু বিদেশি জাত দেশের আবহাওয়ায় ভালো ফলন দিচ্ছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে বড় পরিসরে চাষের আগে এগুলোর অভিযোজন নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে লোনা জমিতে ১৩ জাতের বিদেশি আম চাষ করে সফল হয়েছেন কৃষক মিনারুল হক। বছরে ২০ লাখ টাকা আয়ের এই সমন্বিত খামার এখন স্থানীয় কৃষকদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।


0 Comments