ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিতে কার্টুনিস্ট মেহেদী হকের শিল্পকর্ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল বিতর্ক ও সমালোচনা

জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিতে কার্টুনিস্ট মেহেদী হকের শিল্পকর্ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল বিতর্ক ও সমালোচনা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে কার্টুনিস্ট মেহেদী হকের আঁকা কয়েকটি কার্টুনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই বিতর্ক নিয়ে নিজেদের বিশ্লেষণ ও ভিন্নধর্মী মত তুলে ধরেছেন কার্টুনিস্ট ও শিক্ষার্থী জাহিদ জামিল এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহিদুল হক।

জাহিদ জামিল তাঁর পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক কার্টুন সাধারণত কোনো জটিল পরিস্থিতিকে সহজভাবে উপস্থাপনের মাধ্যম। তিনি জানান, মেহেদী হক বিগত সরকারের আমলেও অত্যন্ত সাহসী ও ক্ষুরধার কার্টুন এঁকেছেন, অথচ বর্তমানে তাঁকে রাজনৈতিক তকমা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেনস্তা করা হচ্ছে। জাহিদ জামিলের মতে, কার্টুনিস্টদের সঙ্গে ক্ষমতার সম্পর্ক সব সময় বৈরী থাকে এবং জুলাইয়ের নাম ভাঙিয়ে কোনো অনৈতিক সিদ্ধান্তকে সমালোচনা থেকে মুক্ত রাখার সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ চিরস্মরণীয় হলেও তাঁদের নাম ব্যবহার করে জীবিত রাজনৈতিক অংশীজনদের ভুল সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা জরুরি।

বিতর্কের মূলে রয়েছে এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামের আদলে আঁকা একটি কার্টুন এবং শহীদ আবু সাঈদের আইকনিক ছবির আদলে তৈরি আরেকটি চিত্রকর্ম। জাহিদ জামিল মনে করেন, এই কার্টুনগুলোর মাধ্যমে শহীদদের ছোট করা হয়নি, বরং বর্তমানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নৈতিকতা বজায় রেখে জনকল্যাণের কথা ভাবতে চাপ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিমাত্রিক শিল্প ও নকশা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহিদুল হক শিল্পের স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতার বিষয়টি তাত্ত্বিকভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কার্টুন কেবল নিছক শিল্প নয়, এটি এক ধরনের ভিজ্যুয়াল সাংবাদিকতা। তাঁর মতে, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান বা নীতিনির্ধারকদের বিরুদ্ধে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ বা 'পাঞ্চিং আপ' করাই স্যাটায়ারের মূল শক্তি। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিত্বকে নীতিগত সমালোচনার বদলে ব্যক্তিগতভাবে কটাক্ষ করা হলে তা ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

মোহাম্মদ জাহিদুল হক আরও উল্লেখ করেন, জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান ছিল একটি বহুত্ববাদী আন্দোলন। কার্টুনে আন্দোলনের কোনো নির্দিষ্ট অংশকে ম্লান করে দেখানোর প্রবণতা ঐতিহাসিক বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। দুই বিশ্লেষকই মনে করেন, শিল্পীর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সামাজিক দায়বদ্ধতা ও তাত্ত্বিক আলোচনার মাধ্যমে কার্টুনের নীতিশাস্ত্র নিয়ে দেশে গঠনমূলক সংলাপ হওয়া প্রয়োজন।

সংক্ষেপে:
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিতে কার্টুনিস্ট মেহেদী হকের আঁকা কার্টুন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল বিতর্ক। শিল্পীর স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে বিশ্লেষকদের মতামত ও বিস্তারিত জানুন।
জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিতে কার্টুনিস্ট মেহেদী হকের শিল্পকর্ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল বিতর্ক ও সমালোচনা

0 Comments