আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংকটে বর্তমানে বিশ্বের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ—হরমুজ প্রণালী ও বাব আল-মানদেব—নজিরবিহীন আক্রমণের শিকার হচ্ছে। আধুনিক ইতিহাসে এই প্রথম দুটি কৌশলগত জলপথ একসঙ্গে সংকটের মুখে পড়ল, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষকদের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ সংকট নয় বরং যুদ্ধ-পরবর্তী সামুদ্রিক সমঝোতার অবসান।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংকটের আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল এবং বাব আল-মানদেব দিয়ে ৯৩ লাখ ব্যারেল খনিজ তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহন করা হতো। বর্তমানে হুতিদের অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারের ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ তেল সরবরাহ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহে ক্ষতির পরিমাণ ইতিমধ্যে ১৩০ কোটি ব্যারেল ছাড়িয়েছে এবং তেলের দাম যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে।
সৌদি আরবের কৌশলগত বিকল্প হিসেবে পরিচিত ‘ইস্ট-ওয়েস্ট পেট্রোলাইন’ এখন চরম ঝুঁকির মুখে। লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর দিয়ে তেল পাঠানোর চেষ্টা করলেও হুতিদের হুমকির মুখে গত দুই সপ্তাহে তেল উত্তোলন ৩৬ শতাংশ কমে গেছে। চ্যাটাম হাউসের গবেষক নিল কুইলিয়াম জানিয়েছেন, হুতিরা ইয়েমেনের ভূখণ্ড থেকে লোহিত সাগরের বিস্তৃত এলাকায় লড়াই ছড়িয়ে দিতে প্রস্তুত। এটি কেবল অবরোধ নয় বরং সরাসরি ধ্বংস করার একটি প্রচেষ্টা।
এদিকে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে যুক্তরাষ্ট্র টানা ১০ রাত ধরে ইরানে হামলা চালিয়েছে, যার জবাবে ইরানও কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে পাল্টা আক্রমণ করছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াবিষয়ক গবেষক কুরনিয়াওয়ান আরিফ মাসপুলের মতে, বর্তমান আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো অরাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীগুলোর আক্রমণ মোকাবিলায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এই সংকট নিরসনে একটি নতুন সামুদ্রিক ব্যবস্থা ও স্থায়ী নৌবাহিনী গঠন করা জরুরি হয়ে পড়েছে, অন্যথায় বিশ্ব অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদী ধসের মুখে পড়বে।
হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালীতে হামলার কারণে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ হুমকির মুখে পড়েছে। তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটে আমদানিকারক দেশগুলোতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।


0 Comments