জাপানের সঙ্গে বিদ্যমান টানাপোড়েন নিরসন করে মেট্রোরেলের দুটি নতুন প্রকল্প এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি সরকার। উচ্চ নির্মাণ ব্যয় নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা কাটিয়ে উন্নয়ন সহযোগী দেশ জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে কাজ করছে বর্তমান প্রশাসন।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ জানিয়েছেন, সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাপানের অর্থায়নেই এমআরটি লাইন-১ ও লাইন-৫ মেট্রোরেল প্রকল্প দুটি নির্মিত হবে। তবে প্রকল্পের অস্বাভাবিক ব্যয় কমাতে জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার সঙ্গে আলোচনা চলছে। এই ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিকতা যাচাই করতে এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক এম শামীমুজ্জামান বসুনিয়াকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্বও দেওয়া হচ্ছে জাপানি কনসোর্টিয়ামকে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম জানান, টার্মিনাল পরিচালনায় রাজস্ব ভাগাভাগির বিষয়ে সুরাহা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী জাপান ৭৩ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ২৭ শতাংশ রাজস্ব পাবে। চলতি মাসের মধ্যেই এ সংক্রান্ত চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জাপানের ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি সুদের হার নমনীয় রাখতে জাপানের অর্থমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন। বর্তমানে জাপানি ঋণের সুদের হার ২.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩.৬ শতাংশ হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আগামী তিন বছর এই হার আগের অবস্থানে রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।
প্রকল্পের ব্যয় ও বাস্তবায়ন নিয়ে ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব জিয়াউল হক এবং মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জাপানি রাষ্ট্রদূত ও জাইকার প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। সব পক্ষই আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে একমত পোষণ করেছে।
জাপানের সঙ্গে টানাপোড়েন কাটিয়ে মেট্রোরেল ও বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। ব্যয় কমাতে চলছে দর-কষাকষি ও কারিগরি পর্যালোচনা।


0 Comments