বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর সাড়ে তিন লাখেরও বেশি মানুষ পানিতে ডুবে প্রাণ হারান, যার ৯০ শতাংশই ঘটে বাংলাদেশের মতো নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে। এই অকালমৃত্যু রোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) 'প্রটেক্ট' (PROTECT) নামে সাতটি বিশেষ কৌশল সম্বলিত নতুন কারিগরি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। গত বৃহস্পতিবার ঘানার রাজধানী আক্রায় আয়োজিত এক সম্মেলনে এই বৈশ্বিক প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হয়। ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস এক বিবৃতিতে জানান, পানিতে ডুবে যাওয়া প্রতিটি মৃত্যুই একটি ট্র্যাজেডি এবং এর অধিকাংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই সাতটি কৌশলের মধ্যে রয়েছে নিরাপদ নৌযান নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের সাঁতার শেখানো এবং বন্যার মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি বাড়ানো। সংস্থার টেকনিক্যাল অফিসার ড. ক্যারোলিন লুকাজিক বলেন, অনেক দেশে এই সংক্রান্ত সঠিক নীতিমালা নেই, যা এই নির্দেশিকার মাধ্যমে পূরণ হবে। সম্মেলনে ঘানার উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবেনেজা ক্লুতে টেলাবি জানান, ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ পানিতে ডুবে যাওয়া। ডব্লিউএইচওর ঘানার প্রধান ফিওনা ব্রাকা এই সমস্যাকে উন্নয়নের পথে একটি বড় অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি ৭ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশের (সিআইপিআরবি) গবেষণা কর্মকর্তা আল আমিন ভূঁইয়া বলেন, দেশের হাওর ও উপকূলীয় অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে এই মৃত্যুর হার বাড়ছে। সিনারগোস-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার এম রিজওয়ান খান জানান, বাংলাদেশে এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর প্রথম পাঁচটি কারণের মধ্যে একটি হলো পানিতে ডুবে যাওয়া। ২০৩৫ সালের মধ্যে এই মৃত্যু হার ৩৫ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
বিশ্বে প্রতিবছর সাড়ে তিন লাখ মানুষ পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছেন। এই ঝুঁকি কমাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সাতটি নতুন কৌশল ঘোষণা করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশেও এই মৃত্যুর হার বাড়ছে।


0 Comments