রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে। এরই মধ্যে ব্যক্তিগত চিকিৎসা শেষে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই আজ শুক্রবার দুপুরে দেশে ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। স্পিকারের এই আকস্মিক প্রত্যাবর্তনের ফলে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয়। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, এক সপ্তাহ দেশের বাইরে থাকায় তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানেন না। তিনি বলেন, আপনারা যেমনটি শুনেছেন, আমিও তেমনটিই শুনেছি। দেশে ফিরে এখন সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বঙ্গভবনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং পদত্যাগপত্রটিও তৈরি করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তিনি এতে স্বাক্ষর করেননি। স্পিকার দেশে না থাকায় এই প্রক্রিয়াটি কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছিল। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের দায়িত্ব পালন করবেন এবং পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। তার কার্যকাল ২০২৮ সাল পর্যন্ত থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি পদত্যাগের পথে হাঁটছেন। তিনি দেশের একমাত্র রাষ্ট্রপতি যিনি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথ পাঠ করিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে নির্ধারিত সময়ের আগেই ব্যাংকক থেকে দেশে ফিরেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে বাড়ছে গুঞ্জন।


0 Comments