কক্সবাজারের সুগন্ধা সৈকতের বালিয়াড়ি দখল করে আবারও প্রায় ৮০০ অবৈধ দোকান গড়ে উঠেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দখলদাররা বারবার ফিরে আসছে। এতে সৈকতের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং পর্যটকদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দুর্নীতি ও তদারকির অভাবে সৈকতের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটি দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
পরিবেশবিদদের মতে, ১৯৯৯ সালে নাজিরারটেক থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার সৈকতকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আইন অনুযায়ী, জোয়ার-ভাটার অঞ্চল থেকে ৩০০ মিটারের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ থাকলেও সুগন্ধা পয়েন্টে তা মানা হচ্ছে না। কক্সবাজার হোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, যাতায়াত সহজ হওয়ায় পর্যটকরা সুগন্ধা সৈকতকে বেশি পছন্দ করেন। এই বিপুল জনসমাগমকে পুঁজি করেই বালিয়াড়িতে শুঁটকি, আচার, ঝিনুকের গয়নাসহ নানা পণ্যের দোকান বসানো হয়েছে।
সম্প্রতি জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশে ৯৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও চার শতাধিক দোকান বসে, যা বর্তমানে আটশ ছাড়িয়েছে। সেভ দা কক্সবাজার-এর সভাপতি তৌহিদ বেলাল এবং বাপা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ জানান, সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে নতুন সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং বালিয়াড়ি দখল করে কোটি টাকার বাণিজ্য শুরু করে।
কক্সবাজার হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, সৈকতে নামার মুখেই এমন ঘিঞ্জি পরিবেশ পর্যটকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশে এর আগে উচ্ছেদ চালানো হয়েছিল। বর্তমানে উচ্ছেদ হওয়া ব্যক্তিরা পুনরায় আদালতে রিট করায় বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা পেলেই পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
কক্সবাজারের সুগন্ধা সৈকতে উচ্ছেদের কয়েক দিন পরই আবারও বসেছে ৮০০ অবৈধ দোকান। সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক প্রভাবে বালিয়াড়ি দখল হওয়ায় ক্ষুব্ধ পর্যটক ও পরিবেশবাদীরা। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি সংশ্লিষ্টদের।


0 Comments