ইসলামি জীবনদর্শনে পরোপকার ও নিঃস্বার্থ জনসেবাকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের সুরা মায়িদার ২ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ সৎকর্ম ও পরোপকারে একে অপরকে সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছেন এবং পাপের কাজে লিপ্ত হতে নিষেধ করেছেন। ইসলামের দৃষ্টিতে সৃষ্টির সেবা করা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি বিশেষ মাধ্যম। সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত হয়েছে যে, অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করার মাধ্যমে মূলত মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা সম্ভব।
ইসলামি সমাজ ব্যবস্থায় জাকাত, সাদকা, ফিতরা ও ওয়াক্ফ মূলত একটি প্রাতিষ্ঠানিক স্বেচ্ছাসেবী মডেল হিসেবে কাজ করে। এই বণ্টননীতি নিশ্চিত করে যে সমাজের বিত্তবানদের সম্পদে বঞ্চিত ও অভাবী মানুষের অধিকার রয়েছে। নবীজি (সা.) শিখিয়েছেন যে, মানুষের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়, যে অন্যের উপকারে আসে। এমনকি পথহারাকে পথ দেখানো বা কারও কষ্ট লাঘব করার মতো ক্ষুদ্র কাজগুলোকেও ইসলামে ‘সদকা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবী মানসিকতার প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে এর নিঃস্বার্থতায়। ইসলাম প্রচারণার চেয়ে গোপন দান ও নিঃস্বার্থ সেবাকে অধিকতর ফজিলতপূর্ণ বলেছে। নবীজি (সা.) নিজে মদিনার মসজিদ নির্মাণের সময় শ্রম দিয়েছেন এবং দুর্ভিক্ষের সময় নিজের খাবার বিলিয়ে দিয়ে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সহিহ বুখারির হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজনে কাজ করে, আল্লাহ তার প্রয়োজনে কাজ করেন।
বর্তমান বিশ্বের মানবিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ইসলামের এই সেবামূলক আদর্শ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ইসলাম আমাদের শেখায় যে, শ্রম, মেধা ও সম্পদ কেবল নিজের জন্য নয়, বরং সমাজের অসহায় মানুষের কল্যাণে ব্যয় করাই প্রকৃত মনুষ্যত্ব। একজন প্রকৃত মুমিন সমাজের জন্য রহমত স্বরূপ এবং তার মাধ্যমে অন্য মানুষ নিরাপদ থাকে। একটি আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে পরোপকার ও স্বেচ্ছাসেবী মানসিকতার কোনো বিকল্প নেই।
ইসলামে পরোপকার ও নিঃস্বার্থ জনসেবাকে শ্রেষ্ঠ ইবাদত বলা হয়েছে। সৃষ্টির সেবার মাধ্যমেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব। নবীজির আদর্শ অনুসরণে মানবতার সেবায় এগিয়ে আসাই প্রকৃত মুমিনের ইমানি দায়িত্ব।


0 Comments