রাজধানীর শাহবাগ থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা মামলায় হাফিজুর রহমান শফিক নামের এক ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত এই আদেশ প্রদান করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার রাতে মগবাজারের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের নিকটবর্তী এলাকা থেকে শফিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মো. জিয়াউল হক আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফায়ার ফাইটার সাদ্দাম হোসেন গত ৮ জুলাই এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় হাফিজুর রহমান শফিক ছাড়াও মো. ফজলুল হক, মো. লিটন মিয়া এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। সাদ্দাম হোসেনের অভিযোগ, আসামিরা সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন এবং নিউজ করার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করতেন। টাকা না দিলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। ইতোমধ্যে শফিকের ফেসবুক পেজ থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করে পুনরায় টাকা দাবি করা হয় এবং অন্য আসামিরা তাতে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
সাদ্দাম হোসেন জানান, আসামিরা তার ব্যক্তিগত সুনাম ও ফায়ার সার্ভিসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। এমনকি টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তদন্ত কর্মকর্তা জিয়াউল হক জানিয়েছেন, আসামি শফিকের বিরুদ্ধে ঢাকা ও চট্টগ্রামে একাধিক মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। অধিকতর তথ্যের জন্য পরবর্তীতে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হতে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সাংবাদিক পরিচয়ে ফায়ার ফাইটারকে ব্ল্যাকমেইল ও এআই দিয়ে ভুয়া ভিডিও তৈরির অভিযোগে হাফিজুর রহমান শফিককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও চট্টগ্রামে একাধিক মামলা রয়েছে।


0 Comments