বরিশাল নগরীতে অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে অমানবিক কায়দায় নির্যাতনের ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আবুল কালাম আজাদ। রবিবার বিকেলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সম্প্রতি নগরীর সদর রোডে অগ্রণী হাউজিংয়ের কার্যালয়ে আব্দুল আজিজ হাওলাদারের অণ্ডকোষ চেপে ধরে জোরপূর্বক চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সিসিটিভি ফুটেজটি ভাইরাল হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হয়।
ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ হাওলাদার বাকলা ডেভেলপারস প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্বরত। তিনি জানান, গত ২৭ জুন রাতে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু, আবুল কালাম আজাদ ও আব্দুল মালেক দুরানী তার অফিসে ঢুকে হামলা চালায়। তারা একসময় ব্যবসায়িক অংশীদার থাকলেও ২০২৩ সালে শেয়ার বিক্রি করে দেনা-পাওনা চুকিয়ে ফেলেছিলেন। হামলার সময় তাকে মারধর করে দুটি চেক ও ছয়টি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এই ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত এফআইআর গ্রহণের নির্দেশ দেন।
মামলার আইনজীবী মো. আবদুল রশীদ খান এই ঘটনাকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম হিসেবে অভিহিত করেছেন। এদিকে, অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু দাবি করেছেন, পাওনা টাকা আত্মসাৎ করায় ক্ষোভ থেকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত লিটুকে যুবদল নেতা হিসেবে প্রচার করায় বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সংগঠনটির নেতারা। জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম তছলিম ও কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট এইচ এম তসলিম উদ্দিন জানান, লিটুর সাথে যুবদলের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদ জানিয়েছেন, ডিবি ও মেট্রোপলিটন পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করেছে এবং অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
বরিশালে হাউজিং এমডিকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত লিটু ও আজাদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হওয়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ নিল বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ।
-6a4a5dde17cfa.webp)

0 Comments