চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে গৃহীত মেগা প্রকল্পের কাজ ৯ বছরেও শেষ না হওয়ায় এর মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে তিন বছরের জন্য নেওয়া এই প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল দাঁড়াবে ১১ বছরে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) দ্বিতীয় দফায় প্রকল্প সংশোধন করে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত নতুন মেয়াদ নির্ধারণ করেছে। এই প্রস্তাবটি গত জুনে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে একনেকে অনুমোদনের সময় ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক এই প্রকল্পের মূল ব্যয় ছিল ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা। বর্তমানে সংশোধিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা। প্রকল্পের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে সিল্টট্র্যাপ, নালা সম্প্রসারণ ও ফুটপাতসহ বিভিন্ন খাতের কাজের পরিমাণ কমানো হয়েছে।
সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক আহমদ মঈনুদ্দিন জানান, প্রকল্পের অধিকাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে অর্থায়ন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন হয়েছে। আগে প্রকল্পের একটি অংশ সিডিএর নিজস্ব তহবিল ও সরকারি ঋণ থেকে দেওয়ার কথা থাকলেও এখন প্রায় পুরো অর্থই সরকারি অনুদান হিসেবে পাওয়া যাবে। এই অর্থ ধাপে ধাপে ছাড় করার কারণেই প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যথাযথ সমীক্ষা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে প্রকল্পটি গ্রহণ করায় শুরু থেকেই নানা জটিলতা দেখা দেয়। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন নিয়ে সিডিএর বাস্তব কোনো ধারণা ছিল না। বিস্তারিত জরিপ ও সমীক্ষা না থাকায় প্রথম দুই বছর কাজই শুরু করা যায়নি। মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে বারবার নতুন সমস্যা দেখা দেওয়ায় সময় বৃদ্ধি ছাড়া বিকল্প ছিল না।
উল্লেখ্য, গত মে মাস পর্যন্ত সিডিএর এই প্রকল্পের অগ্রগতি ৯৮ শতাংশ হলেও ৩৬টি খালের মধ্যে হিজড়া ও জামাল খান খালের কাজ এখনো বাকি রয়েছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের পরেও নগরবাসী জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে পুরোপুরি মুক্তি পায়নি।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের মেয়াদ আরও ২ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ৩ বছরের এই প্রকল্প শেষ হতে এখন সময় লাগবে ১১ বছর। যথাযথ সমীক্ষার অভাব ও অর্থায়ন জটিলতায় বাড়ছে এই দীর্ঘসূত্রতা।

0 Comments