২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু আসামি হতে পারেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বৃহস্পতিবার বিকেলে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে ইনুর বিরুদ্ধে শাপলা চত্বরের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে শাপলা চত্বরের ঘটনার সময় হাসানুল হক ইনু তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ওই সময় দিগন্ত টেলিভিশন এবং ইসলামিক টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করা হয়েছিল। এমনকি ওই রাতে ইসলামিক টেলিভিশনের কার্যালয়ে ভাঙচুরও চালানো হয়। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড গোপন করা এবং আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই ইনু টেলিভিশন দুটির সম্প্রচার বন্ধ করেছিলেন। শেখ হাসিনার পুরো শাসনামলে এই দুটি চ্যানেল বন্ধ রাখা হয়েছিল।
এই মামলায় ইতিমধ্যে সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম এবং সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপা গ্রেপ্তার রয়েছেন। অন্যদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, বেনজীর আহমেদ ও ইমরান এইচ সরকারসহ বেশ কয়েকজন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্য একটি মামলায় গত মঙ্গলবার হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। শাপলা চত্বরের ঘটনায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত ৫৮ জন নিহতের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।
শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু আসামি হতে পারেন বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর। তথ্য গোপনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


0 Comments