নরসিংদীর শিবপুরে ভাসুরের মারধর ও অপমান সহ্য করতে না পেরে বিষপান করে আরিফা আক্তার (২৭) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার দুপুরে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এর আগে বিষপানের কারণে তার ২০ মাস বয়সী শিশু সন্তান রিয়াদুলও গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাঘাব ইউনিয়নের ব্রাহ্মন্দী গ্রামের দুই ভাই বাদল মিয়া ও আব্দুস সাত্তারের মধ্যে মা-বাবার ভরণপোষণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। গত রোববার এই বিরোধের জেরে বড় ভাই বাদল মিয়া ছোট ভাই সাত্তারের স্ত্রী আরিফাকে কাঠের টুকরো দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। ওই দিনই জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন স্বামী আব্দুস সাত্তার। তিনি চলে যাওয়ার পর বিকেলে পুনরায় আরিফাকে মারধর করেন বাদল মিয়া।
স্বজনদের দাবি, এই লাঞ্ছনা সইতে না পেরে আরিফা প্রথমে তার শিশু সন্তান রিয়াদুলকে বিষ খাওয়ান এবং পরে নিজে বিষপান করেন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গত মঙ্গলবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরিফার মৃত্যু হয়। শিশু রিয়াদুল বর্তমানে ঢাকা শিশু হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। স্ত্রীর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে গত রাতেই দেশে ফিরেছেন স্বামী আব্দুস সাত্তার।
শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কোহিনূর মিয়া জানান, নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় স্বামী আব্দুস সাত্তার বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নরসিংদীর শিবপুরে ভাসুরের মারধর ও লাঞ্ছনা সইতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন গৃহবধূ আরিফা আক্তার। বিষপানে তার ২০ মাস বয়সী শিশু সন্তানের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করেছে।


0 Comments