ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

বন বিভাগের আপত্তিতে আটকে আছে খুটাখালী-ঈদগড় সড়ক নির্মাণ, ভোগান্তিতে কয়েক লাখ মানুষ

বন বিভাগের আপত্তিতে আটকে আছে খুটাখালী-ঈদগড় সড়ক নির্মাণ, ভোগান্তিতে কয়েক লাখ মানুষ

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী থেকে রামুর ঈদগড় পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্প বন বিভাগের আপত্তিতে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের টানাপোড়েনে আটকে থাকা এই প্রকল্পের কারণে প্রতিদিন চকরিয়া, রামু, লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার কয়েক লাখ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জাইকার অর্থায়নে দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এই সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে প্রায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কের দুই প্রান্তের উল্লেখযোগ্য কাজ শেষ হলেও মাঝখানের কয়েক কিলোমিটার অংশে বন বিভাগের আপত্তির কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে খুটাখালী বাজার থেকে মধুশিয়া এবং ঈদগড় থেকে কালাপাড়া পর্যন্ত সড়ক চলাচলের উপযোগী হলেও মাঝের অংশটি বন্ধ থাকায় মাত্র পাঁচ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে স্থানীয়দের প্রায় ২০ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এটি কোনো নতুন সড়ক নয় বরং ব্রিটিশ আমল থেকেই মানুষ এই পথে চলাচল করছে। খুটাখালীর ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী লিটন জানান, সড়কটি নির্মাণের জন্য স্থানীয়রা স্বেচ্ছায় জমি দিয়েছেন এবং কোনো গাছ না কেটেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব। কৃষক কামাল উদ্দিন বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক হওয়ায় কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে অতিরিক্ত খরচ ও কষ্ট হচ্ছে। লামার ফাঁসিয়াখালীর বাসিন্দা ইয়াকুব আলী জানান, বর্ষা মৌসুমে তারা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন এবং জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অপর বাসিন্দা নুর আহমদের মতে, যাতায়াত সংকটের কারণে এলাকায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় গড়ে না ওঠায় অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা প্রাথমিকের পরেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত সড়ক নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধনও করেছেন।

তবে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মারুফ হোসেন জানান, আপত্তিকৃত অংশটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং মহাবিপন্ন এশীয় হাতির চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ করিডোর। সেখানে সড়ক নির্মাণ হলে হাতির বিচরণ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মানুষ-হাতি সংঘাত বাড়বে এবং প্রাচীন গর্জন বনও ঝুঁকিতে পড়বে। অন্যদিকে উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী ফরিদুল আলম জানান, এটি একটি গেজেটভুক্ত জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সড়ক এবং প্রকল্পের প্রায় ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বন বিভাগ যে অংশ নিয়ে আপত্তি তুলেছে সেখানে এখনো কাজ শুরু হয়নি। সড়কটি পুরোপুরি নির্মিত হলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাথে এই অঞ্চলের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে, যা শিক্ষা, চিকিৎসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনবে।

সংক্ষেপে:
কক্সবাজারের খুটাখালী-ঈদগড় সড়ক নির্মাণ কাজ বন বিভাগের আপত্তিতে আটকে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। উন্নয়ন ও পরিবেশের দ্বন্দ্বে ঝুলে থাকা এই প্রকল্পের দ্রুত সমাধান চান এলাকাবাসী।
বন বিভাগের আপত্তিতে আটকে আছে খুটাখালী-ঈদগড় সড়ক নির্মাণ, ভোগান্তিতে কয়েক লাখ মানুষ

0 Comments