২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান, ভূ-রাজনীতি এবং বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট লেখক, তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার। সম্প্রতি সংবাদ-এর বার্তা প্রধান রাশেদ আহমেদকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ফরহাদ মজহার বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন ছিল মূলত একটি গণঅভ্যুত্থান, যা তরুণদের নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়ার আকাঙ্ক্ষা এবং দীর্ঘদিনের দুর্নীতিগ্রস্ত ও মাফিয়া রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তিনি মনে করেন, ৫ আগস্টের পর পুরনো সংবিধান ও আমলাতন্ত্র বজায় রাখায় রাষ্ট্রব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। বর্তমান সরকারকে তিনি অন্তর্বর্তী সরকার না বলে সেনাবাহিনী সমর্থিত উপদেষ্টা সরকার হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের উচিত ছিল গণঅভ্যুত্থানের ম্যান্ডেট নিয়ে একটি পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা। ভূ-রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের মতো পরাশক্তির প্রভাব থাকলেও জনগণের রাজনৈতিক শক্তিই মূল চালিকাশক্তি ছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ডক্টর ইউনূস কর্তৃক মাহফুজ আলমকে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে যাওয়া মূলত রেজিম চেঞ্জ প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার অংশ। সাক্ষাৎকারে ফরহাদ মজহার জামায়াতে ইসলামীর নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং বলেন যে, ১৯৭১ সালের বিরোধিতার ইতিহাস নিয়ে এই নামে রাজনীতি করা আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনেই সহায়তা করবে। এছাড়া তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদকে একটি সংকীর্ণ ধারণা হিসেবে উল্লেখ করে সকল ধর্ম ও জাতিসত্তার সমন্বয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সবশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন তাত্ত্বিক ফরহাদ মজহার। বর্তমান সরকারের আইনি ভিত্তি ও আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে তার বিশ্লেষণ জানতে পড়ুন বিস্তারিত সংবাদ।


0 Comments