কক্সবাজারের উখিয়ায় সি-লাইন ও কক্স লাইন পরিবহন সার্ভিস নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, হামলা ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে রাজাপালং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বাদশাহর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় উখিয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন রাজাপালং ইউনিয়নের কাশিয়ারবিল এলাকার পরিবহন ব্যবসায়ী আবুল হাসান। মামলায় মোহাম্মদ বাদশাহসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আরও বেশ কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উখিয়া বাজারের গাউছিয়া মার্কেটে সি-লাইন ও কক্স লাইন পরিবহন সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ করে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা আদায় করে আসছিলেন বাদশাহ। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে গেলেও তার পক্ষে ভায়রা ভাই মোহাম্মদ আরমান চাঁদা আদায়ের দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। বাদী আবুল হাসান জানান, তার তিনটি গাড়ি লাইনে যুক্ত করতে প্রতিটি গাড়ির জন্য দুই লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়। এই চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গত ৩ জুলাই গাউছিয়া মার্কেট এলাকায় তাকে বাধা প্রদান, মারধর ও ভাঙচুর করা হয়। পরবর্তীতে ৫ জুলাই রাতে একই স্থানে দ্বিতীয় দফায় হামলার শিকার হন তিনি। ওই সময় বাদীসহ তার সহযোগী ও দুইজন চালককে মারধর করে আহত করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আহতরা উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পরিবহন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মনির জানান, বাদশাহ ও আরমানের মাধ্যমে গাড়ি লাইনে যুক্ত করতে টাকা নেওয়ার বিষয়টি নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের টাকা নেওয়া হলেও সেই টাকা কোথায় যায় তা মালিকদের জানা নেই। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে অভিযুক্ত মোহাম্মদ বাদশাহ ও অন্যদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
উখিয়ায় পরিবহন সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ বাদশাহসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।


0 Comments