আলিপুরদুয়ারের বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প সংলগ্ন লেফরাগুড়ি বনবস্তি এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একটি বুনো হাতির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ফসলি জমিতে পাতা বৈদ্যুতিক তারের ফাঁদে পড়ে হাতিটির মৃত্যু হয় বলে বন দপ্তর নিশ্চিত করেছে। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এই অঞ্চলে এটি দ্বিতীয় হাতি মৃত্যুর ঘটনা। এর আগে গত ১৭ জুন আলিপুরদুয়ারের মণ্ডলপাড়ায় আরও একটি হাতির দেহ উদ্ধার হয়েছিল।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছান বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা কুমার বিমল এবং পূর্ব বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের উপক্ষেত্র অধিকর্তা দেবাশিস শর্মা। তারা স্থানীয় বাসিন্দা মিঠুন ও তার প্রতিবেশী পলাশ রাভাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তদন্তে ঘটনার পেছনে পলাশ রাভার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ প্রসঙ্গে বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওঁরাও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, বন্যপ্রাণী হত্যার সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
বন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে উত্তরবঙ্গে তড়িৎস্পৃষ্ট হয়ে ২৪টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অবসরপ্রাপ্ত বনকর্তার মতে, বন্যপ্রাণীর আক্রমণে ফসলের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জটিল প্রক্রিয়ার কারণে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়, যার ফলে এমন অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটছে। বনমন্ত্রী জানিয়েছেন, কৃষকরা যাতে দ্রুত ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পান সে বিষয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। ১৯৭২ সালের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত হলে অপরাধীর সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
আলিপুরদুয়ারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ফের বুনো হাতির মৃত্যু হয়েছে। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের কাছে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে বন দপ্তর। বন্যপ্রাণী রক্ষায় কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বনমন্ত্রী।


0 Comments