পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার অভিযোগে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাকে আর ছাড় না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার বিকেলে বঙ্গভবন থেকে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এএসএম বাহাউদ্দিন পদত্যাগপত্রটি নিয়ে সংসদ সচিবালয়ে যান। সেখানে বিকেল ৫টা ১ মিনিটে স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করেন।
গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, মো. সাহাবুদ্দিন শুধু লন্ডনে চিকিৎসার সময় নয়, দেশে অবস্থানকালেও একাধিকবার পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। ১৮ মে লন্ডন থেকে ফেরার পর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই গোপন যোগাযোগের তথ্য উদ্ঘাটন করে। যদিও মো. সাহাবুদ্দিন এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও তাকে হেয় করার চক্রান্ত হিসেবে দাবি করেছেন। তিনি জানান, ফোনালাপের কোনো প্রমাণ দেখাতে পারলে তিনি জনগণের যেকোনো রায় মেনে নেবেন।
সম্প্রতি ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ঘোষণা এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সন্দেহজনক গতিবিধি বিবেচনা করে সরকার মো. সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করে। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে এনসিপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন সংগঠন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিল। বিএনপি শুরুতে তাকে সমর্থন দিলেও বর্তমানে তার কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক অঙ্গনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিদেশে অবস্থানরত স্পিকারকে দ্রুত দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। বর্তমানে স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের অভিযোগে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে সরিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।


0 Comments