ফ্রান্সের ইভিওঁ লা বাঁ-তে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের সামনে এক রূঢ় বাস্তবতা উন্মোচিত হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘ ও ব্রেটন উডস প্রতিষ্ঠানের ওপর ভিত্তি করে যে বিশ্বব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, তা এখন শেষের পথে। বর্তমানের বহুমেরু কেন্দ্রিক ও ডিজিটালভাবে সংযুক্ত পৃথিবীতে পুরোনো নিয়মে শাসন পরিচালনা আর সম্ভব হচ্ছে না।
সম্মেলনে আলোচনা উঠে আসে যে, অর্থনৈতিক শক্তি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে জি-৭ এই রূপান্তরের নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন চিন্তাধারার আমূল পরিবর্তন। বর্তমানে জাতীয় স্বার্থ ও কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলো হিমশিম খাচ্ছে।
গ্লোবাল সলিউশনস ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং কিয়েল ইনস্টিটিউট ফর দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমির সাবেক সভাপতি ডেনিস জে স্নোয়ারের মতে, এখন সর্বসম্মতির মোহ ছেড়ে জোটভিত্তিক শাসনব্যবস্থার দিকে এগোতে হবে। নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধানে আগ্রহী দেশগুলো একত্র হয়ে যৌথ মানদণ্ড ও নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুললে তা বেশি কার্যকর হবে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এই মডেল সফল হতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাণিজ্যের সাথে পরিবেশ বা প্রযুক্তির নিরাপত্তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার সুযোগ নেই। সাফল্যের সংজ্ঞা হিসেবে শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে না দেখে সামাজিক স্থিতিশীলতা ও পরিবেশগত সুরক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। ভবিষ্যতের বিশ্বব্যবস্থা কোনো একক শক্তির ওপর নয়, বরং বিভিন্ন ইস্যুভিত্তিক জোটের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে।
জি-৭ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের সামনে পুরোনো বিশ্বব্যবস্থার অবসানের চিত্র ফুটে উঠেছে। জলবায়ু ও প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখন প্রয়োজন জোটভিত্তিক নতুন শাসনব্যবস্থা ও সমন্বিত উদ্যোগ।


0 Comments