ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে চূড়ান্ত সমঝোতা: রোববার জেনেভায় সই হতে পারে ঐতিহাসিক চুক্তি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী রোববার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে পশ্চিমা একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, সম্ভাব্য এই চুক্তির মাধ্যমে ইরান আরও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই যুদ্ধে ইরানই বিজয়ী হয়েছে।

চুক্তি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্যমতে, এই সমঝোতা স্মারকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানের বিভিন্ন বন্দর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ শুরুর যে অজুহাত দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আলোচনার সুযোগ রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই সমঝোতা আলোচনার মাধ্যমে ট্রাম্পের মূল লক্ষ্যগুলো অর্জিত হচ্ছে। মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রায়ান জিনকেও জানিয়েছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটন যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, দুই পক্ষ এই স্মারকে সই করলে প্রাথমিকভাবে ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধ বন্ধ থাকবে এবং এই সময়ের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে আলোচনা হবে। তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও অস্ট্রিয়ার সাবেক সামরিক কর্মকর্তা উল্ফগ্যাং পুসতাই মনে করেন, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে হামলা ও দখলদারি অব্যাহত রাখায় এই সমঝোতা কতটা সফল হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে লেবাননে হামলা বন্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও জব্দ করা অর্থ ছাড়ের দাবি জানানো হয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও জ্বালানিমন্ত্রী ইল কোহেন এই চুক্তির বিষয়ে সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব রোমের শিক্ষক আন্দ্রিয়া দেসি মনে করেন, ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কৌশলগত বিপর্যয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এই চুক্তি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য একটি সম্মানজনক প্রস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। উল্লেখ্য, এই যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।

সংক্ষেপে:
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে চূড়ান্ত সমঝোতা স্মারক সই হতে যাচ্ছে। রোববার জেনেভায় এই চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।