ঝিনাইদহে যমজ কন্যা সন্তান হওয়ায় তালাকপ্রাপ্তা রিনা খাতুনকে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পুনরায় বিয়ে করলেন স্বামী

ঝিনাইদহের মহেশপুরে যমজ কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে স্বামীর ঘর থেকে বিতাড়িত ও তালাকের শিকার হওয়া রিনা খাতুনের সংসারে অবশেষে শান্তি ফিরেছে। প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগে নিজের ভুল স্বীকার করে রিনাকে পুনরায় বিয়ে করে ঘরে তুলে নিয়েছেন স্বামী রাকিবুল ইসলাম। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মহেশপুর থানায় দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে এই পুনর্মিলন ঘটে। মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসানের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ আলোচনার পর উভয় পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। এরপর কাজি ডেকে ধর্মীয় ও আইনি বিধান মেনে তাদের পুনরায় বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুর উপজেলার কোলা গ্রামের রিনা খাতুন অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালে যমজ সন্তান হওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারে কলহ শুরু হয়। একপর্যায়ে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যমজ কন্যাসন্তান জন্মের পরও স্বামী রাকিবুল ইসলাম স্ত্রী বা সন্তানদের কোনো খোঁজ নেননি। উল্টো রিনার কাছে তালাকের নোটিশ পাঠান তিনি। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে প্রশাসনের নজরে আসে। মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর পুলিশ দুই পক্ষকে থানায় ডেকে আলোচনার উদ্যোগ নেয়। থানায় আলোচনার একপর্যায়ে রাকিবুল নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানকে গ্রহণ করতে রাজি হন। রিনা খাতুন জানান, সব আশা ছেড়ে দেওয়ার পর প্রশাসনের উদ্যোগে তার পরিবারটি আবার এক হয়েছে। তিনি সন্তানদের নিয়ে সুখে থাকতে চান। স্বামী রাকিবুল ইসলাম বলেন, ভুল বোঝাবুঝির কারণে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, এখন সব মিটে গেছে। মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ ও দুই শিশুর কল্যাণের কথা ভেবেই এই পুনর্মিলনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা এই পরিবারের নিয়মিত খোঁজখবর রাখবেন।

সংক্ষেপে:
ঝিনাইদহে যমজ কন্যা সন্তান হওয়ায় তালাকপ্রাপ্তা রিনা খাতুনকে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পুনরায় বিয়ে করে ঘরে তুলেছেন স্বামী রাকিবুল ইসলাম। মহেশপুর থানায় দুই পরিবারের উপস্থিতিতে এই পুনর্মিলন ঘটে।
ঝিনাইদহে যমজ কন্যা সন্তান হওয়ায় তালাকপ্রাপ্তা রিনা খাতুনকে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পুনরায় বিয়ে করলেন স্বামী