প্রাচীন ব্যাবিলন থেকে আধুনিক বিজ্ঞান: যেভাবে শুরু হয়েছিল সময় গণনার ঐতিহাসিক যাত্রা

দৈনন্দিন জীবনে আমরা যে ৬০ সেকেন্ডে এক মিনিট বা ৬০ মিনিটে এক ঘণ্টার হিসাব ব্যবহার করি, তার পেছনে লুকিয়ে আছে মানব ইতিহাসের কয়েক হাজার বছরের পুরনো এক বৈজ্ঞানিক রহস্য। প্রায় আড়াই থেকে চার হাজার বছর আগে বর্তমান ইরাকের টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর তীরে প্রাচীন ব্যাবিলন শহরে এই নিয়মের জন্ম হয়েছিল। মূলত ব্যাবিলনীয়দের হাত ধরেই পৃথিবীতে প্রকৃত বিজ্ঞানের চর্চা শুরু হয়। আদিম যুগের কৃষকেরা প্রকৃতির সাধারণ নিয়ম জানলেও ব্যাবিলনীয়রা ছিলেন প্রথম সুশৃঙ্খল পর্যবেক্ষক। তারা আকাশের গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন এবং সেই তথ্য কাদা-মাটির ফলকে কিউনিফর্ম লিপিতে লিখে রাখতেন। তাদের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রজন্মের জন্য গাণিতিক সূত্র ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভিত্তি তৈরি হয়। ব্যাবিলনীয়দের "এনুমা আনু এনলিল" এবং "মুল.আপিন" নামক বইগুলোতে তারাদের অবস্থান ও সূর্য-চাঁদের চলার পথ নিখুঁতভাবে লিপিবদ্ধ ছিল। ব্যাবিলনের বিজ্ঞানীরা টানা ৭০০ বছর ধরে জ্যোতির্বিজ্ঞানের দিনলিপি লিখেছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তারা গ্রহের অবস্থান ও গ্রহণের সময় আগে থেকেই বলে দেওয়ার কৌশল রপ্ত করেন। তারা ১০-ভিত্তিক দশমিক পদ্ধতির পরিবর্তে ৬০-ভিত্তিক সংখ্যাপদ্ধতি ব্যবহার করতেন। আকাশ পর্যবেক্ষণ, কোণ পরিমাপ এবং সময় গণনার ক্ষেত্রে এই ৬০ সংখ্যাটি এতটাই কার্যকর ছিল যে আধুনিক যুগেও সেই নিয়ম অপরিবর্তিত রয়েছে। এমনকি নাসার বর্তমান সময়ের গ্রহণ সংক্রান্ত তালিকার আদি ভিত্তিও এই ব্যাবিলনীয় বিজ্ঞানীদের কাজ থেকেই এসেছে।

সংক্ষেপে:
সময় গণনার আধুনিক নিয়মগুলো আসলে হাজার বছর আগের ব্যাবিলনীয় সভ্যতার দান। প্রাচীন এই বিজ্ঞানীদের নিরলস পর্যবেক্ষণ ও গাণিতিক কৌশলের কারণেই আজ আমরা নিখুঁতভাবে সময় ও মহাজাগতিক ঘটনা পরিমাপ করতে পারছি।

সূত্র: প্রথম আলো