Recents in Beach

ব্রেকিং নিউজ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত থামাতে পাকিস্তানের গোপন কূটনৈতিক তৎপরতা: শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে মধ্যস্থতা করছে ইসলামাবাদ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত থামাতে পাকিস্তানের গোপন কূটনৈতিক তৎপরতা: শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে মধ্যস্থতা করছে ইসলামাবাদ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার গতি থমকে যাওয়ার পর পাকিস্তান এখন পর্দার আড়ালে এক জরুরি মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দুই দেশের মধ্যে শান্তিচুক্তি নিশ্চিত করতে এবং আলোচনার পথ খোলা রাখতে ইসলামাবাদ নিয়মিত প্রস্তাব আদান-প্রদান করছে। পাকিস্তান সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, কেবল আঞ্চলিক শান্তিই নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় এই সংঘাত থামানো প্রয়োজন। যুদ্ধের প্রভাবে পাকিস্তানের জ্বালানি আমদানি ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় দেশটি এই শান্তি প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি ইরানের কাছ থেকে একটি সংশোধিত শান্তি প্রস্তাব পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাসুদ খান জানান, ইসলামাবাদের সরাসরি হস্তক্ষেপে শুরুতে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, যা বর্তমানে অনির্দিষ্টকালের জন্য অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানের পরবর্তী লক্ষ্য হলো উভয় পক্ষকে হরমুজ প্রণালিতে দেওয়া নিজ নিজ অবরোধ একযোগে তুলে নিতে রাজি করানো। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবরোধ বজায় রাখার পক্ষে অনড় রয়েছেন এবং ইরানের পক্ষ থেকেও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

এই কূটনৈতিক তৎপরতায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি সম্প্রতি তেহরানে তিন দিন অবস্থান করে ইরানের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক সফর করে আঞ্চলিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়েছেন। পারমাণবিক ইস্যুতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ১০ বছরের জন্য স্থগিত রাখা এবং মজুতকৃত ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় পাঠানোর মতো প্রস্তাবগুলো এখন আলোচনার টেবিলে রয়েছে। যদিও কোনো পক্ষই এখনো তাদের মূল অবস্থান থেকে পুরোপুরি সরে আসেনি, তবুও পাকিস্তান বিশ্বাস করে একটি সম্মানজনক সমঝোতা এখনো সম্ভব।

সংক্ষেপে:
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ এড়াতে এবং শান্তি ফেরাতে গোপন মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইসলামাবাদের এই কূটনৈতিক তৎপরতা এখন সময়ের দাবি।

সূত্র: প্রথম আলো

Post a Comment

0 Comments