বাংলাদেশের নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বিষাক্ত পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ও দৃষ্টিভঙ্গি। দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে তারা এখনো নানামুখী বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে নিজের আয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বাধীনতার অভাব তাদের ক্ষমতায়নকে বাধাগ্রস্ত করছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশে নারী বেকারত্বের হার ১০ শতাংশ হলেও শিক্ষিত নারীদের মধ্যে এই হার ২২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৩ লাখ উচ্চশিক্ষিত নারী বেকার রয়েছেন। শিল্প খাতে নারীর কর্মসংস্থানের হার মাত্র ৩ শতাংশ এবং কর্মরত নারীদের ৮১ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। এছাড়া আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে নারীদের হার মাত্র ৩০ শতাংশ এবং প্রতি চারজনের মধ্যে মাত্র একজনের ইন্টারনেট সুবিধা রয়েছে।
নারীর ক্ষমতায়নের পথে নিরাপত্তার অভাবও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যক্তিগত নিরাপত্তা থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও নিপীড়ন মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে পোশাক রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় এই খাতের ৮০ শতাংশ নারী শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
আগামী অর্থবছরের বাজেটে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষায়িত ঋণ, উৎপাদন উপকরণের সহজলভ্যতা এবং গৃহস্থালির সেবামূলক কাজের জন্য আর্থিক প্রণোদনার সুপারিশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে নারীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে শিক্ষা ও প্রজনন স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের পথে প্রধান বাধা বিষাক্ত পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। শিক্ষিত নারীদের বেকারত্ব ও আয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণহীনতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। আসন্ন বাজেটে নারীর জন্য বিশেষ বরাদ্দ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
সূত্র: প্রথম আলো

0 Comments