ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে প্রযুক্তি, দেশপ্রেম ও নৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয়ে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। তিনি বলেন, আধুনিক যুগে সামরিক কর্মকর্তাদের শুধু অস্ত্র পরিচালনায় দক্ষ হলে চলবে না; প্রযুক্তি, তথ্য, মনস্তত্ত্ব ও কৌশলগত যোগাযোগেও সমান পারদর্শী হতে হবে।
বাংলাদেশ মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (এমআইএসটি) সশস্ত্র বাহিনীর তরুণ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং ১৯৭১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ধারণ করা তরুণ কর্মকর্তাদের জাতীয় দায়িত্ব।
বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান যুদ্ধ কেবল প্রচলিত অস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাইবার যুদ্ধ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যযুদ্ধ এখন জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শন ধারণ করে দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, তরুণ কর্মকর্তাদের চরমপন্থা, সাম্প্রদায়িকতা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। বাংলাদেশ সহনশীলতা ও মধ্যপন্থার দেশ। কর্মকর্তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও নৈতিকভাবে দৃঢ় হয়ে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি। অনুষ্ঠানে এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামানসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রযুক্তি, দেশপ্রেম ও নৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয়ে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা। এমআইএসটিতে তরুণ কর্মকর্তাদের আধুনিক যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

0 Comments