বরিশালে বিদ্যুৎ মেরামতের কথা বলে ইলেকট্রিক মিস্ত্রিকে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, নারীসহ গ্রেপ্তার ২

বরিশাল নগরীর রূপাতলীতে বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের কথা বলে এক ইলেকট্রিক মিস্ত্রিকে বাসায় ডেকে নিয়ে জিম্মি ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হানি ট্র্যাপ চক্রের নারী সদস্য সুমাইয়া আক্তার ও তার স্বামী, চক্রের মূল হোতা কাওরান ইসলাম আকাশকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মো. ইউসুফ জানান, গত ৫ মে সন্ধ্যায় রূপাতলী আহমেদ মোল্লা সড়কের ‘বুশরা মঞ্জিল’ নামক একটি বাসায় বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের কথা বলে তাকে ডেকে নেন সুমাইয়া। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে দরজা বন্ধ করে লাইট নিভিয়ে দেওয়া হয়। এরপর চক্রের সদস্যরা তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে এবং নারী নির্যাতন মামলার ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে তার সহকারী মোতাহারকেও একই কায়দায় আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়। প্রাণভয়ে তারা বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে ২৩ হাজার টাকা দিয়ে মুক্তি পান।

কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সুমাইয়া আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ওই বাসা থেকে কিছু পরিমাণ গাঁজা ও ৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে চক্রের মূল হোতা আকাশকেও একই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমাইয়া মাদক সেবনের কথা স্বীকার করেছেন।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লুৎফর রহমান জানান, এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও হানি ট্রাপিংয়ের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীদের ছিনিয়ে নেওয়া দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে এবং মুক্তিপণ বাবদ নেওয়া টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

সংক্ষেপে:
বরিশালে বিদ্যুৎ মেরামতের কথা বলে ইলেকট্রিক মিস্ত্রিকে বাসায় ডেকে নিয়ে জিম্মি ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জড়িত হানি ট্র্যাপ চক্রের নারীসহ মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।