বাংলাদেশের বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থা কর্তৃত্ববাদী ও আনুগত্যপ্রত্যাশী শাসক তৈরির উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে যারা সরকার গঠন করেছে বা সরকারের শরিক হয়েছে, তাদের অনেকেই স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি এবং রাষ্ট্র সংস্কারের দুর্বলতার সুযোগে ভবিষ্যতে আবারও স্বৈরাচারী শাসনের উত্থান ঘটার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের মূল লক্ষ্য সর্বময় কর্তৃত্ব অর্জন। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের বিগত শাসনকালকে ফ্যাসিবাদী এবং এরশাদের আমলকে স্বৈরাচারী হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পরও এই ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন না হলে নতুন করে স্বৈরাচারী শাসনের ঝুঁকি থেকেই যায়। বিশেষ করে বিএনপি সরকার গঠন করলে তাদের সামনে কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠার বেশ কিছু নিয়ামক কাজ করতে পারে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে জনমনে ভীতি এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রক্রিয়ায় থাকা সীমাবদ্ধতা অন্যতম।
কর্তৃত্ববাদী ‘আইনতন্ত্র’ এমন একটি কৌশল যেখানে নির্বাচিত নেতারা আইনি প্রক্রিয়ার আড়ালে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। এর ফলে সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের পথ প্রশস্ত হয়। বর্তমানে সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাব এবং আইনি লড়াইয়ে অভিজ্ঞতার ঘাটতি এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী বা জাতীয় নাগরিক পার্টির মতো দলগুলো বিভিন্ন কারণে সরকারকে মৌলিক সংস্কারে বাধ্য করতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা এবং সংবিধানের মৌলিক সংস্কার ছাড়া এই সংকট থেকে মুক্তি সম্ভব নয়। অন্যথায় ১৫ বা ২০ বছর পরপর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চক্র চলতেই থাকবে। তাই ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা রোধে এখনই সাবধান হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় আবারও স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। সংস্কার না হলে কর্তৃত্ববাদী আইনতন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো

0 Comments