ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে আশানুরূপ অগ্রগতি না হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও বাড়ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ইরানের বন্দর অবরোধ করে রেখেছে, অন্যদিকে ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
শুক্রবার তাৎক্ষণিক বেচাকেনায় প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৮৯ সেন্ট বেড়ে ১১১ দশমিক ২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার এক পর্যায়ে এই দাম ১২৬ দশমিক ৪১ ডলারে উঠেছিল, যা ২০২২ সালের মার্চের পর সর্বোচ্চ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬৫ ডলার। এ সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ হয়। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করেছেন যে, এই পথে সরবরাহ বিঘ্নিত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি কমবে এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্য ও চরম খাদ্যসংকটে পড়বে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেল কোম্পানিগুলোর নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মার্কিন ভোক্তাদের ওপর যুদ্ধের প্রভাব কমানোর উপায় নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়। অন্যদিকে যুদ্ধের প্রভাবে ইরানের অর্থনীতি চরম সংকটে পড়েছে। দেশটিতে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৫৩ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে এবং প্রায় ২০ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছে।
ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালি অবরোধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বাড়ছে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো

0 Comments