মেরিন ড্রাইভে দেড় হাজার অবৈধ স্থাপনাকে কউকের নোটিশ

কক্সবাজার শহর, কলাতলী হয়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক এবং সমুদ্রের আশপাশের অধিকাংশ এলাকায় একের পর এক অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এসব ভবনের অধিকাংশেরই অনুমোদন বা দাপ্তরিক ক্লিয়ারেন্স নেই বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, কেউ রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে, আবার কেউ অবৈধভাবে আর্থিক সুবিধা দিয়ে এসব নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অনুমোদনের তথ্য জানতে চাইলে অনেক ভবন মালিক নানা অজুহাত দেখিয়ে আড়ালে চলে যান। এমনকি ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে কেউ কেউ রাজনৈতিক বড় নেতাদের নামও ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া বা ইসিএ এলাকায় গড়ে ওঠা প্রায় দেড় হাজার অবৈধ স্থাপনার মালিককে নোটিশ দিয়েছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কউক। তবে নোটিশ পাওয়ার পরও অনেক ভবন মালিক নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ডলফিন মোড় হয়ে মেরিন ড্রাইভে প্রবেশ করলেই শত শত অবৈধ ভবনের নির্মাণকাজ চলমান দেখা যায় বলে স্থানীয়দের দাবি।

আমরা কক্সবাজারবাসীর সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন বলেন, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের পর থেকে যে হারে ভবন নির্মাণ হয়েছে, তার অধিকাংশেরই অনুমোদন নেই। ইসিএ এলাকায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এক অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে এসব কাজ চলমান রয়েছে। এগুলো বন্ধ করা না গেলে পরিবেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে এবং পর্যটন নগরী ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার শহরের আশপাশের এলাকার চিত্র দেখলে ভয়াবহ অবস্থা চোখে পড়ে। যেখানে বড় বড় পাহাড় ছিল, সেগুলো কেটে একের পর এক অট্টালিকা নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। তার অভিযোগ, এসব কাজে কউক ও পরিবেশ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এবং আর্থিক লেনদেনের সন্দেহ দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো দায়সারা ভূমিকা নিলে আগামীতে জনগণ তাদের প্রতি আস্থা হারাবে। তাই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতামূলক কার্যক্রম নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

কউকের অথরাইজড অফিসার ফজলে রাব্বি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইসিএ এলাকা হওয়ায় সেখানে স্থাপনা নির্মাণে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে অনেকেই অনুমতি ছাড়া ভবন নির্মাণ করছেন। এসব স্থাপনার অধিকাংশেরই কউকের অনুমোদন নেই, এমনকি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও নেওয়া হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালের আগে পৌরসভার একটি অনুমোদন নিয়েই অনেকেই এসব ভবন নির্মাণ করেছেন। তবে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের পর সেই অনুমোদন আর কার্যকর থাকে না।

ফজলে রাব্বি জানান, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করা হয়েছে। অনেকেই নোটিশের জবাব দিচ্ছেন। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পর্যায়ক্রমে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোর্স: বিজনেস বাংলাদেশ

সংক্ষেপে:
কক্সবাজার শহর, কলাতলী ও মেরিন ড্রাইভ এলাকায় অনুমোদনহীন স্থাপনা নিয়ে কউক প্রায় দেড় হাজার মালিককে নোটিশ দিয়েছে। ইসিএ এলাকায় নির্মাণ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা দাবি উঠেছে।