পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শেষে এক অভূতপূর্ব চিত্র ফুটে উঠেছে। বুধবার রাজ্যের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট পড়লেও সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ এই হার রেকর্ড ৯৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ৯২ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছিল।
এই বিপুল ভোটদান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিজেপি এই উচ্চ অংশগ্রহণকে পরিবর্তনের হাওয়া এবং শাসকদলের বিরুদ্ধে জনরোষ হিসেবে দেখছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একে গণতন্ত্রের উৎসব হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা এবং কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে মানুষ তাদের অধিকার রক্ষায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার লড়াই বলে বর্ণনা করেছেন।
ভোট চলাকালীন বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। পূর্ব বর্ধমানের আউসগ্রাম, হাওড়ার বালি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাতগাছিয়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রাজ্য পুলিশ প্রায় আড়াই হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।
ভৌগোলিক দিক থেকে পূর্ব বর্ধমানে সর্বোচ্চ ৯২.৪৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। এছাড়া নদিয়া, হুগলি, হাওড়া এবং দুই ২৪ পরগনার গ্রামীণ ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও ভোটের হার ছিল চোখে পড়ার মতো। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই ১৪২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ১২৩টি এবং বিজেপি ১৮টি আসনে জয়ী হয়েছিল। ফলে এবারের ভোট শাসকদলের দুর্গ রক্ষা এবং বিজেপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। আগামী ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে রেকর্ড ৯৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। এই বিপুল অংশগ্রহণকে বিজেপি পরিবর্তনের ইঙ্গিত বললেও তৃণমূল একে অধিকার রক্ষার লড়াই বলছে। ৪ মে জানা যাবে চূড়ান্ত ফলাফল।
সূত্র: Sangbad

0 Comments