সুনামগঞ্জে টানা ভারী বর্ষণে বোরো ধান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন হাওরপাড়ের কৃষকেরা। রোদ না থাকায় খলায় স্তূপ করে রাখা ভেজা ধানে অঙ্কুর বা চারা গজিয়ে যাচ্ছে। খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়া এই নষ্ট ধান নিয়ে কৃষকদের মধ্যে হাহাকার দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বজ্রপাত ও বন্যার শঙ্কা উপেক্ষা করে কৃষকেরা বুক সমান পানিতে নেমে ধান কেটে খলায় এনে স্তূপ করে রেখেছেন। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে সেসব ধান শুকানোর সুযোগ মিলছে না। দিনের পর দিন ভিজে অবস্থায় স্তূপ করে রাখায় ভেতরে তাপ সৃষ্টি হয়ে ধানে চারা গজিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শনির হাওরপাড়ের কৃষক আলমগীর কবির জানান, তার প্রায় ৩০ মণ ধান নষ্ট হয়ে গেছে এবং অনেক ধান নদীতে ফেলে দিতে হয়েছে। একইভাবে জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকেরা তাদের সারা বছরের খোরাক হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, জেলায় এভাবে কয়েক লাখ মণ ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, ধান দীর্ঘ সময় স্তূপ করে রাখায় এমনটি হচ্ছে। বড় কোনো নিরাপদ স্থানে ধান ছড়িয়ে নিয়মিত নাড়াচাড়া করলে ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, কৃষকদের ধান ঢেকে না রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং জেলার ১০টি ড্রায়ার মেশিন দিয়ে ধান শুকানোর চেষ্টা চলছে। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘবে জেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ধান শুকানোর জন্য উন্মুক্ত করে দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অটো রাইস মিল মালিকেরা যাতে কাঁচা ধান কেনেন, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টিতে খলায় রাখা বোরো ধানে চারা গজিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সারা বছরের খোরাক হারিয়ে দিশেহারা হাওরপাড়ের কৃষকেরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি ভবনগুলো ধান শুকানোর জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
সূত্র: Sangbad

0 Comments