গত ৮ সেপ্টেম্বর সকাল সাতটার দিকে কুমিল্লা নগরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুজানগর এলাকা থেকে তাহমিনা বেগম (৫২) ও তার মেয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সুমাইয়া আফরিনের (২৩) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন।
গ্রেপ্তার আসামি মোবারক হোসেনের বাড়ি জেলার দেবীদ্বার উপজেলার কাবিলপুর গ্রামে। তিনি কুমিল্লা নগরের বাগিচাগাঁও কাজীবাড়ি এলাকায় ভাড়া থাকতেন। তদন্তে জানা গেছে, স্থানীয় এক মাদরাসা শিক্ষকের মাধ্যমে তাহমিনা বেগম ও তার মেয়ের সঙ্গে মোবারকের পরিচয় হয়। তিনি নিজেকে কবিরাজ পরিচয় দিয়ে ‘জিন তাড়ানোর’ প্রলোভনে তাদের বাড়িতে যান। সেসময় তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে প্রতিবাদে এগিয়ে যান মা। প্রথমে মাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে পরে মেয়েকেও গলাটিপে হত্যা করে মোবারক। এরপর তাদের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও চার্জার নিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৪ জুন কুমিল্লার এক মাদরাসায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে মোবারক। বাধা পেয়ে ছুরিকাঘাত করারও চেষ্টা করে। একই দিনে আরেক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে স্থানীয়ভাবে সালিশে দোষ প্রমাণিত হয় এবং এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। তবে সঠিক বিচার না পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী এক শিশুর মা জানান, মামলা করার পরও মোবারক ও তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন নানাভাবে হুমকি দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, টাকা দিয়ে একাধিকবার ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে এসব অভিযোগ। সৌদি থেকে ফিরে এসে তিনি আবারও কবিরাজি শুরু করেন এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহযোগিতা নেন।
মাদরাসার শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মোবারক কালোজাদু ও কবিরাজির আড়ালে নারীদের টার্গেট করতেন। রাজনৈতিক নেতারাও তার কাছ থেকে চিকিৎসা নিতেন এবং সাহায্য দিতেন। এমনকি মাদরাসা পরিচালনার নামে সিসিটিভি, এসি, ফ্রিজসহ নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতেন তিনি।
মোবারকের পরিবার থেকেও অভিযোগের সত্যতা আংশিক স্বীকার করা হয়। বড় ভাই সুজন দাবি করেন, কবিরাজ ইলিয়াস শাহের প্রভাবে বিপথগামী হয়েছেন মোবারক। স্ত্রী সুমাইয়া জানান, তিনি স্বামীর এসব কর্মকাণ্ড জানতেন, তবে ছোট সন্তানদের কারণে তালাক দেননি।
ধর্ষণচেষ্টা মামলার প্রসঙ্গে কোতোয়ালি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ সাইফুল মালিক বলেন, “এটা আগের ঘটনা, মামলা হয়েছে কিনা জানি না।” মামলার পিপি অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ সবুজ জানান, আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল এবং তিনি তখন থেকেই পলাতক ছিলেন।
0 Comments