শনিবার প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ ৪ দশমিক ৩৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে মিনহাজুল ইসলাম রোজান। তবে জীববিজ্ঞানের ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় শুধু ওই বিষয়টিতে তাকে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থী ছিল রোজান। গত ১২ আগস্ট এইচএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা চলাকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। এরপর হাসপাতালে টানা ১০ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ছেলের মৃত্যুর পর ফল হাতে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা সাজ্জাদুল মিরাজ। তিনি জানান, জীববিজ্ঞান বাদ দিয়ে অন্যান্য বিষয়ে জিপিএ ৪ দশমিক ৩৩ এসেছে। ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এ বিষয়ে এ প্লাস পেলে চূড়ান্ত ফল হতো জিপিএ ৪ দশমিক ৮৩। রোজানের মা ফাহমিদা আক্তার ও বাবা সাজ্জাদুল মিরাজের অভিযোগ, পরীক্ষার চাপের পাশাপাশি ছেলের ডায়াবেটিস ছিল, যা তাঁরা আগে জানতেন না। গত ৬ আগস্ট অসুস্থ হওয়ার পর বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলেও ডায়াবেটিসসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। পরবর্তীতে ১৩ আগস্ট শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় রক্তে শর্করার মাত্রা ৩৮ মিলিমোল/লিটারে পৌঁছালে ছেলের ডায়াবেটিসের বিষয়টি জানতে পারেন তারা। পড়াশোনার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ক্লাস ক্যাপ্টেন এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) সঙ্গে যুক্ত ছিল রোজান। ছেলের ফল প্রকাশের দিনে আনন্দের বদলে এখন কেবল শোকের স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে তার পরিবার।
এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪ দশমিক ৩৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে মৃত শিক্ষার্থী মিনহাজুল ইসলাম রোজান। ব্যবহারিক পরীক্ষার আগে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয় তার।


0 Comments