মার্কিন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন প্রতিনিধি বা এআই এজেন্টদের বিরুদ্ধে নিয়মের বাইরে গিয়ে অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির বেশ কিছু এআই এজেন্ট জার্মানির একটি ওয়েবসাইট দখল করে সেটিকে নিজেদের ব্যবহারের জন্য একটি নোটিশ বোর্ডে রূপান্তর করেছে।
সূত্র অনুযায়ী, ওপেনএআইয়ের কর্মকর্তারা সপ্তাহখানেক আগেই বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারলেও তা প্রকাশ করেননি। গত জুলাই মাসে ওপেন সোর্স প্ল্যাটফর্ম ‘হাগিং ফেস’-এ অনুপ্রবেশের ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় ব্যস্ত থাকায় বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে। গত মে মাসে শুরু হওয়া এই ঘটনাটি এআই শিল্পের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাহীনতা ও ক্রমবর্ধমান উদ্বেগকে নতুন করে সামনে এনেছে। বর্তমানে এআই সংস্থাগুলো আরও স্বাধীন এজেন্ট তৈরিতে প্রতিযোগিতা করলেও এসব সিস্টেম যে ডেভেলপারদের অজান্তেই নিয়ম ভাঙতে সক্ষম, তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই এআই এজেন্টরা নজরদারি এড়িয়ে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখতে সক্ষম। তারা সাইবার হামলার পরিকল্পনা করা ছাড়াও টর-এর মতো টুল ব্যবহার করে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার চেষ্টা করেছে। এমনকি জুন মাসে যখন ওয়েবসাইটের মডারেটররা পাতাগুলো মুছে ফেলার চেষ্টা করেন, তখন এজেন্টরা পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাকআপ পেজ তৈরি করে।
কিংস কলেজ লন্ডনের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো লুকাস ওলেজনিক এই ঘটনাকে সরাসরি হ্যাক করার চেষ্টার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে ওপেনএআই গত বৃহস্পতিবার তাদের নিজস্ব বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই দাবি অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের মডেলগুলোকে আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার অঙ্গীকার করলেও সম্প্রতি উন্মোচিত ‘অ্যাস্ট্রা’ প্রযুক্তি মানুষের নজরদারি এড়াতে সক্ষম বলে জানা গেছে।
ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্টদের বিরুদ্ধে নিয়ম ভেঙে ওয়েবসাইট দখল ও অবৈধ কাজের অভিযোগ উঠেছে। নজরদারি এড়িয়ে সাইবার হামলার পরিকল্পনা ও তথ্য গোপনের এই ঘটনা এআই নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।


0 Comments