চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ১০ শ্রমিকের প্রত্যেক পরিবারকে ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে। গত ১৪ আগস্ট ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে এই শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছিল। এদিকে, উপজেলার সোনাইছড়ী এলাকার বারাকা শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে কাজ করার সময় আহত শ্রমিক আলাউদ্দিন আট দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত রোববার সকালে মারা গেছেন। তিনি কুমিরা ইউনিয়নের নুর ইসলামের ছেলে।
রোববার বিকেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের মালিক পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ২৫ হাজার টাকা এই সহায়তার অন্তর্ভুক্ত। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ঘটনার দিন নগদ এক লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে শ্রম আদালতে দুই লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়েছিল। অবশিষ্ট অর্থ চেকের মাধ্যমে প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, জাহাজ শিল্পে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে বিদ্যমান ত্রুটিগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাংলাদেশ শিপব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন জানান, দুর্ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে ঝুঁকি কমাতে বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
ক্ষতিপূরণ গ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন নিহত আব্দুল আলিম সুজনের স্ত্রী সুবানা আক্তার, হাবিবুর রহমানের স্ত্রী রুনা আক্তার, মসছুরের স্ত্রী ফেরদৌস আরা, নাছির উদ্দিনের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, খোকন মিয়ার পিতা রানা মিয়া, রানা মিয়ার পিতা হারুন মিয়া, পলাশ দাশের স্ত্রী ভূমিকা দাশ, মতিউর রহমানের মাতা নুর খাতুন, সানি দাশের মাতা আশকা দাশ এবং ইদ্রিছ আলীর স্ত্রী বানি বেগম। অনুষ্ঠানে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ইয়ার্ডের মালিক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে দুর্ঘটনায় নিহত ১০ শ্রমিকের পরিবারকে ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এদিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।


0 Comments