আমেরিকার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আড়াই শ বছর পূর্ণ হতে চললেও সব নাগরিকের সম-অধিকারের প্রতিশ্রুতি এখনো পুরোপুরি রক্ষিত হয়নি। ১৭৮৭ সালে ফিলাডেলফিয়া সম্মেলনে বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন যে প্রজাতন্ত্র রক্ষার সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, তা বর্তমানে আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে ‘ইম্পেরিয়াল প্রেসিডেন্সি’ বা রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার যে প্রবণতা দেখা দিয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঐতিহাসিক ও বিশ্লেষকরা। নিউইয়র্ক টাইমসের ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জনাথান সোয়ান তাদের ‘রেজিম চেঞ্জ: ইনসাইড দ্য ইম্পেরিয়াল প্রেসিডেন্সি অব ডোনাল্ড ট্রাম্প’ বইতে উল্লেখ করেছেন যে, ট্রাম্প নিজেকে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী মনে করেন।
দেশটিতে বর্তমানে সম্পদের পাহাড়সমান বৈষম্য ও বর্ণবাদ প্রকট আকার ধারণ করেছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মাত্র এক শতাংশ ধনীর হাতে দেশের এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ কুক্ষিগত। ২০৪০ সাল নাগাদ অশ্বেতকায় মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কায় শ্বেতকায়দের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিভেদ বাড়ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেও আশার আলো দেখাচ্ছেন জোহরান মামদানির মতো তরুণ নেতারা। নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে নির্বাচিত মামদানি নিজেকে ‘ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের অধিকার ও সুরক্ষার কথা বলছেন। জর্জ ওয়াশিংটন ও আব্রাহাম লিঙ্কন থেকে শুরু হওয়া সম-অধিকারের এই লড়াই এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। লেখক ও সাংবাদিক হাসান ফেরদৌসের মতে, আমেরিকা এখন বিভক্তি ও জনকল্যাণমুখী—এই দুই পথের মোহনায় অবস্থান করছে।
আমেরিকার ২৫০ বছরের পথচলায় সম-অধিকারের লড়াই এখনো চলছে। ট্রাম্পের রাজতান্ত্রিক শাসন বনাম মামদানির নতুন রাজনীতির চ্যালেঞ্জ নিয়ে দেশটি এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।

0 Comments