চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জাতীয় পার্টির (জাপা) এক প্রেসিডিয়াম সদস্যের বাড়িতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ দুই নেতার অবস্থান ও রাতযাপন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গত রবিবার রাতে উপজেলার বৈলছড়ি গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ‘খান বাহাদুর বদি আহমদ বাড়ি’তে অবস্থান করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত তিনটি নির্বাচনে সহযোগিতার অভিযোগে একসময় জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছিল এনসিপি। এমন প্রেক্ষাপটে দলটির শীর্ষ নেতার বাড়িতে বন্যাদুর্গতদের ত্রাণ দিতে এসে এনসিপি নেতাদের রাতযাপন ও নৈশভোজের বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈলছড়ি গ্রামের ওই বাড়িটি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর। তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র এবং জাতীয় পার্টির আমলে দুই দফায় বাঁশখালী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এর আগে ১৯৭৯ সালে বিএনপি থেকেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এ বিষয়ে মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং বাড়িটি তাদের ছয় ভাইয়ের। এনসিপি নেতাদের অবস্থানের বিষয়ে তিনি প্রথমে জানতেন না, পরে বিষয়টি শুনেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমেরিকাপ্রবাসী তার এক ছোট ভাইয়ের সঙ্গে এনসিপি নেতাদের যোগাযোগ থাকতে পারে। তবে তাদের পরিবারের কেউ এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে, রবিবার রাতে এনসিপি নেতাদের থাকা-খাওয়ার সার্বিক বিষয়টি তদারকি করেছেন মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর বড় ভাই অলিউল ইসলাম চৌধুরী শুক্কু মিয়ার ছেলে রহিমুল এহসান চৌধুরী মিঠু। এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় রবিবার সকালে চট্টগ্রামে আসেন নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহ। দিনভর আনোয়ারা ও বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণের পর সন্ধ্যায় তারা ওই বাড়িতে যান।
চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির দপ্তর সম্পাদক রিদুয়ান হৃদয় জানান, তারা বাঁশখালীতে রাতে অবস্থান করেছিলেন এটি সত্য, তবে বাড়িটি সুনির্দিষ্টভাবে কার তা তার জানা নেই।
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জাতীয় পার্টি নেতার বাড়িতে এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহর রাতযাপন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ত্রাণ বিতরণ শেষে এই অবস্থান নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


0 Comments