অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার পেছনে ১১টি প্রধান কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য প্রদান করেন। অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৫ দশমিক শূন্য ৪ কোটি টাকা আহরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এপ্রিল পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ দশমিক ১৬ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ৭৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
রাজস্ব ঘাটতির কারণ হিসেবে অর্থমন্ত্রী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনজনিত সাময়িক শূন্যতা, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিপর্যয়, উচ্চ উৎপাদন ব্যয় এবং সামষ্টিক অর্থনীতির মন্দাভাবকে দায়ী করেন। এছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিনিয়োগ ও আমদানি-রপ্তানি হ্রাস এবং বেশ কিছু মূসক ও সম্পূরক শুল্ক প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাকেও তিনি অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, জ্বালানি তেলের শুল্ক কমানো, এলএনজিতে ভ্যাট প্রত্যাহার এবং বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আহরণ প্রভাবিত হয়েছে। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী অর্থনৈতিক স্থবিরতাও করপোরেট কর আহরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, মার্চ পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে গৃহীত ঋণের স্থিতি ৩ লাখ ১৩ হাজার ৬৭০ দশমিক ৪৮ কোটি টাকা। এছাড়া ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে সরকারের ঋণের স্থিতি ৮ লাখ ৯৩ হাজার ৮৩৭ দশমিক ২৬ কোটি টাকা। সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তিনটি আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ৪৮৪ দশমিক ৪১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পেয়েছে। সংসদ সদস্য হাফেজ মুহা. রবিউল বাশারের প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপরিশোধিত বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ছিল ৭৮ হাজার ৬৭ দশমিক ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
জাতীয় সংসদে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার ১১টি সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দাকে তিনি মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

0 Comments