বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বান্দরবান অংশে আবারও প্রাণঘাতী স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু আমতলী সীমান্তে এই দুর্ঘটনায় এক রোহিঙ্গা যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত যুবকের নাম আব্দুল খালেক (৩০)। তিনি কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-ব্লকের বাসিন্দা মো. আনু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে আব্দুল খালেক রেজু আমতলী বিওপি সংলগ্ন ৪০ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছাকাছি এলাকায় যান। সেখানে হঠাৎ একটি স্থলমাইন বিস্ফোরিত হলে তাঁর বাম পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ডান পা গুরুতর জখম হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তাঁকে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পর ঘুমধুম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে, সীমান্তে একের পর এক মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয় বাগান মালিক ও জুমচাষিদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, গত এক মাসে এই সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। সীমান্তরেখা বরাবর মিয়ানমার অভ্যন্তরে পুঁতে রাখা এসব মাইন বর্ষার শুরুতে বা অসাবধানতাবশত যাতায়াতের সময় বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গত এক মাসে এই সীমান্তে এটি চতুর্থ প্রাণহানির ঘটনা। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

0 Comments